ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

৯৭ দিন হাসপাতালে শিক্ষার্থী, ৩৬ বার অপারেশন

নিজস্ব প্রতিবদেক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 191

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত। ফাইল ছবি

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ৯৭ দিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল শিক্ষার্থী নাভিদ নেওয়াজ (১৩)। স্কুলটির ৭ম শ্রেণিতে পড়ে সে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা তাকে ছাড়পত্র দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক ডা. মারুফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই ওই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নাভিদের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সিএমএইচ থেকে ঘটনার পরদিন তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। ওই সময় ক্রমাগত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরপর দুইবার তার পরিবারকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল- যেকোনো সময় দুঃসংবাদ আসতে পারে।

তবে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেননি জানিয়ে তিনি বলেন, মোট ২২ দিন নাভিদ আইসিইউতে ভর্তি ছিল। এরমধ্যে ১০ দিন তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এরপর ৩৫ দিন তাকে হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে ৪০ দিন কেবিনে থাকার পর সোমবার সুস্থ হয়ে সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে।

৯৭ দিন হাসপাতালে শিক্ষার্থী, ৩৬ বার অপারেশন
নাভিদকে সোমবার ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকেরা। ছবি: সংগৃহীত

ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, নাভিদের মোট ৩৬ বার ছোটবড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে ত্বক প্রতিস্থাপন হয়েছে আটবার। এই ঘটনার অন্য কোনো দগ্ধ রোগীর এটি লাগেনি।

পরিচালক বলেন, ‘নাভিদকে যেদিন এখানে নিয়ে আসা হলো, সেদিন সে বারবার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল। সে বলছিল, আমাকে বাঁচান, আমি কি বাঁচব? দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়ার পর তার ফুসফুসে পানি জমেছিল। এ জন্য লাইফ সাপোর্টেও উপুড় করে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং। সেখান থেকে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এখনো এই ঘটনার ৫ জন দগ্ধ শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। তারাও ভালো আছে। সপ্তাহখানেক পর তারাও বাড়িতে চলে যাবে।’

নাভিদের বাবা মিজানুর রহমান চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ছেলে ও এই ঘটনায় হতাহতের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। ওই সময় মুহূর্তেই দাউ দাউ করে চারদিকে আগুন জ্বলে ওঠে। সেদিনের সেই আগুনে পুড়ে ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারান। একই সময়ে প্রাণ হারান প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের পাইলটও।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাইলস্টোনে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

৯৭ দিন হাসপাতালে শিক্ষার্থী, ৩৬ বার অপারেশন

সর্বশেষ আপডেট ০৫:২৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ৯৭ দিন পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরল শিক্ষার্থী নাভিদ নেওয়াজ (১৩)। স্কুলটির ৭ম শ্রেণিতে পড়ে সে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকেরা তাকে ছাড়পত্র দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের যুগ্ম পরিচালক ডা. মারুফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২১ জুলাই ওই ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় নাভিদের শরীরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সিএমএইচ থেকে ঘটনার পরদিন তাকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়। ওই সময় ক্রমাগত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরপর দুইবার তার পরিবারকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল- যেকোনো সময় দুঃসংবাদ আসতে পারে।

তবে চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেননি জানিয়ে তিনি বলেন, মোট ২২ দিন নাভিদ আইসিইউতে ভর্তি ছিল। এরমধ্যে ১০ দিন তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। এরপর ৩৫ দিন তাকে হাইডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে ৪০ দিন কেবিনে থাকার পর সোমবার সুস্থ হয়ে সে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছে।

৯৭ দিন হাসপাতালে শিক্ষার্থী, ৩৬ বার অপারেশন
নাভিদকে সোমবার ছাড়পত্র দেন চিকিৎসকেরা। ছবি: সংগৃহীত

ডা. মারুফুল ইসলাম বলেন, নাভিদের মোট ৩৬ বার ছোটবড় অপারেশন হয়েছে। শরীরের ক্ষতস্থানে ত্বক প্রতিস্থাপন হয়েছে আটবার। এই ঘটনার অন্য কোনো দগ্ধ রোগীর এটি লাগেনি।

পরিচালক বলেন, ‘নাভিদকে যেদিন এখানে নিয়ে আসা হলো, সেদিন সে বারবার বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিল। সে বলছিল, আমাকে বাঁচান, আমি কি বাঁচব? দুর্ঘটনায় পুড়ে যাওয়ার পর তার ফুসফুসে পানি জমেছিল। এ জন্য লাইফ সাপোর্টেও উপুড় করে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। এটি খুবই চ্যালেঞ্জিং। সেখান থেকে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে। এখনো এই ঘটনার ৫ জন দগ্ধ শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। তারাও ভালো আছে। সপ্তাহখানেক পর তারাও বাড়িতে চলে যাবে।’

নাভিদের বাবা মিজানুর রহমান চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর কাছে ছেলে ও এই ঘটনায় হতাহতের জন্য দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান। ওই সময় মুহূর্তেই দাউ দাউ করে চারদিকে আগুন জ্বলে ওঠে। সেদিনের সেই আগুনে পুড়ে ও ধ্বংসাবশেষে চাপা পড়ে স্কুলের বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রাণ হারান। একই সময়ে প্রাণ হারান প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানের পাইলটও।