৭১-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে: রিজওয়ানা
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 92
সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন দেখেছিল, রাষ্ট্র এখনো সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার কারণেই দীর্ঘ সময় পর আবার গণঅভ্যুত্থান ও গণআন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই মানুষের আশা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। কিন্তু বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বর্তমান সময়কে তিনি একটি সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, পুরোনো শাসনব্যবস্থাকে পেছনে ফেলে নতুনভাবে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তথ্য উপদেষ্টা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। তিনি বলেন, এটি শুধু নির্বাচন নয়, অনেকটা গণভোটের মতো, যেখানে সংস্কারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণ মতামত জানাতে পারবে। জনগণের সেই মতের ওপর নির্ভর করেই গণতন্ত্রের যাত্রা নতুন রূপ পেতে পারে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও যদি গণঅভ্যুত্থানের প্রয়োজন হয়, তাহলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়—১৯৭১ সালের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা রাষ্ট্র পূরণ করতে পারেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে, যার ফলে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকবে এবং বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের পথচলা শুরু করা সম্ভব হবে।
রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য হত্যাচেষ্টা বা সহিংসতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার যে প্রবণতা রয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় ও কাপুরুষোচিত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শক্তি প্রমাণের জায়গা হচ্ছে জনগণের মুখোমুখি হওয়া, সহিংসতা নয়। নতুন বাংলাদেশে এই সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্র ছিল ভেঙে পড়া অবস্থায়। সেই পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রাষ্ট্রকে আবার কার্যকর পথে ফেরানোই ছিল সরকারের প্রধান কাজ। তিনি বলেন, সরকারকে এখনই সফল বা ব্যর্থ বলার সুযোগ নেই; সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হয়, তার ওপরই সরকারের সাফল্য নির্ভর করবে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে যে প্রস্তুতি থাকা দরকার, তা সরকারের রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও আক্রমণের প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক প্রস্তুতির চেয়ে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। প্রতিপক্ষ এখন আরও সংগঠিতভাবে এবং পেছন থেকে আঘাত হানছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মোকাবিলায় সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করছে।
নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা। তবে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি শক্তি সক্রিয় রয়েছে, যাদের প্রতিহত করতে সরকারকে একদিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে। জনগণকে ভীত করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব হলো জনগণকে আশ্বস্ত করা, যাতে ভয় সমাজে ছড়িয়ে না পড়ে। সেই লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


































