৫ আগস্টে জাতির সামনে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’
- সর্বশেষ আপডেট ০২:০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 211
জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’-এর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় এটি জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।
শনিবার (২ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, “গণঅভ্যুত্থানের সব পক্ষের উপস্থিতিতে আগামী মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট, এই ঘোষণাপত্র উন্মোচন করা হবে। বিস্তারিত ঘোষণা শিগগির দেওয়া হবে।”
ঘোষণাপত্র প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর খসড়া প্রস্তুত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এটি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপে ওঠে আসা প্রস্তাবের ভিত্তিতে। খসড়ায় মোট ২৬টি দফা রয়েছে।
প্রাথমিক খসড়ায় উল্লেখ ছিল, অভ্যুত্থান ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে সংগঠিত। তবে চূড়ান্ত খসড়ায় বলা হয়েছে, এটি হয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বানে।
প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে খসড়াটি পাঠানো হয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতামতের জন্য। পরে সংশোধিত চূড়ান্ত খসড়াও দলগুলোর কাছে পাঠানো হয় চূড়ান্ত মতামত নিতে।
তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১ আগস্ট রাতে তাদের ফেসবুকে জানান, ঘোষণাপত্রের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি প্রকাশের অপেক্ষায়। মাহফুজ আলম লেখেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র এখন বাস্তবতা।” সজীব ভুঁইয়ার মন্তব্য, “জুলাই ঘোষণাপত্র আসছে…”
জুলাই মাসজুড়ে দেশে যে গণআন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ঘটেছে, তা ঘিরেই এই ঘোষণাপত্রের সূচনা।
২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঘোষণা আসে যে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। ৩১ ডিসেম্বর এ বিষয়ে কর্মসূচি জানানো হয়।
তখন আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছিলেন, “এই ঘোষণাপত্রের মধ্য দিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানের অবসান ঘটানো হবে এবং পুরনো রাজনৈতিক ধারা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।”
প্রথম দিকে অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগে সরাসরি জড়িত না থাকলেও পরে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সরকারই ঘোষণাপত্র প্রণয়নের দায়িত্ব নেয়।
৫ আগস্ট ঘোষণাপত্র প্রকাশের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক চুক্তির সূচনা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
































