১৯ ট্রলারসহ ১২২ জেলেকে পুলিশে হস্তান্তর
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / 104
সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমার জলসীমায় ঢুকে পড়া কক্সবাজারের টেকনাফে ১৯টি ট্রলারসহ ১২২ জেলেকে ফেরত আনার পর আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এর মধ্যে ট্রলারগুলো মাঝিমাল্লা হিসেবে থাকা ৯৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং এপিবিএন পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাঠানো হচ্ছে। বাকি ২৯ জন বাংলাদেশি জেলে এবং ১৯টি ট্রলার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর। তিনি বলেন, “আজ শনিবার সকালে তাদেরকে পুলিশের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা এপিবিএন পুলিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোহিঙ্গা নাগরিকদের আশ্রয়শিবিরে পাঠানো হচ্ছে।”
ওসি আরও বলেন, “বাকি ২৯ জন বাংলাদেশি জেলে এবং ১৯টি ট্রলার কোস্ট গার্ডের সিদ্ধান্ত অনুসারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরীর উপস্থিতিতে সামাজিক বিচারের মাধ্যমে ট্রলার মালিক সমিতির নেতা ও মালিকদের হাতে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জলসীমানা অতিক্রম না করার অঙ্গীকার নেওয়ায় ট্রলার ও জেলেদের সতর্ক করে স্ব-স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।”
কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের গণমাধ্যম কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, “গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ মোহনা পর্যন্ত নাফ নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার জলসীমায় ঢোকা ১৯ ট্রলারসহ ১২২ জেলেকে ফেরত এনেছে কোস্ট গার্ড সদস্যরা।”
তিনি আরও বলেন, “রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সীমান্তের বড় অংশ এখন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে শূন্যরেখা অতিক্রম করে মিয়ানমারে ঢুকলেই জেলেদের ধরে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ অবস্থায় জেলেদের ফেরত আনতে গিয়ে কোস্ট গার্ডসহ সীমান্তে নিয়োজিত বাহিনীকে নানা বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্রপাচার রোধেও চ্যালেঞ্জ বাড়ছে।”
ফেরত আনা জেলেরা এখন শাহপরীর দ্বীপ কোস্ট গার্ড স্টেশনে হেফাজতে থাকলেও তাদেরকে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ট্রলার মালিকদের দাবি, “সাগরে মাছ ধরতে গেলে নাইক্ষ্যংদিয়া পয়েন্ট দিয়েই যেতে হয়, না হলে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে যাবে।”
ট্রলার মালিকদের তথ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৩ দিনে আরাকান আর্মি ১০টি ট্রলারসহ ৬৩ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে গোষ্ঠীটি ২৬৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। তাঁদের মধ্যে ১৮৯ জন এবং ২৭টি নৌযান ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে।
































