১০ টাকার চালের গল্পের পুনরাবৃত্তি, এবার ‘কৃষি–ফ্যামিলি কার্ড’: জামায়াত
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪১:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / 46
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিং করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচন সামনে রেখে ১০ টাকা কেজি চালের প্রতিশ্রুতির মতোই কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ডের নামে ডামি কার্ড বিতরণ করে ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, এসব কার্ড দেখিয়ে ভোটের বিনিময়ে সুবিধার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, যা স্পষ্ট প্রতারণা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, অতীতে ১০ টাকার চাল, ঘরে ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল, বাস্তবে জনগণ কিছুই পায়নি। সেই বঞ্চনা থেকেই ছাত্রদের আন্দোলন হয়েছে এবং সরকার পতন ঘটেছে। এখন একই কৌশলে কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা নামে ডামি কার্ড বিলি করে বলা হচ্ছে, ভোট দিলে এসব সুবিধা মিলবে। কমিশনকে বিষয়টি জানিয়ে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে, কারণ এতে ভোটাররা প্রতারিত হচ্ছে এবং আগের মতোই ভোটের ফল প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, কিছু কর্মকর্তা ইতোমধ্যে নিরপেক্ষতা হারিয়ে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। কোথাও দ্বৈত নাগরিকত্বে এক নিয়ম, কোথাও আরেক নিয়ম; ঋণখেলাপির ক্ষেত্রেও কোথাও বৈধ, কোথাও অবৈধ ঘোষণা করা হচ্ছে। আইন থাকলে সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না। সরকারি অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা বসানোর প্রস্তাব দিলেও ইসি তা বাস্তবায়ন করেনি। বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায়।
নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সুন্দর নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইসিকেই উদ্যোগী হতে হবে। সহযোগী শক্তি হিসেবে জামায়াত পাশে আছে, তবে আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা থাকলে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে তারা বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনসংক্রান্ত সব ক্ষমতা ইসির হাতে। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। অথচ তফসিল অনুযায়ী ২২ ফেব্রুয়ারি প্রচারণা শুরুর কথা থাকলেও কিছু দল আগেই মাঠে নেমেছে। বিপরীতে জামায়াত প্রার্থীরা প্রচারণা না করলেও ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, একদিকে আচরণবিধি ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই, অন্যদিকে যারা ভঙ্গ করছেন না তাদের জরিমানা ও নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্য বন্ধ করতে কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
































