ঢাকা ০২:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হোসেনপুরে চরাঞ্চলের বেরিবাঁধের বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫
  • / 221

হোসেনপুরে চরাঞ্চলের বেরিবাঁধের বেহাল দশা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গড়বিশুদিয়া টু পোড়াবাড়িয়া হয়ে চরকাটিহারী ও চরহাজীপুর টু হাজিপুর বাজার পর্যন্ত বন্যাকবলিত চরাঞ্চল রক্ষায় নির্মিত বেরিবাঁধের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বেরিবাঁধটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার কৃষি ফসল রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কয়েক যুগ আগে বেরিবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। কিছু বছর আগে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশ সংস্কার করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এই সড়কে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, লরি, টমটম, অটোরিকশা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। প্রায় প্রতিদিনই সড়কের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলও এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সড়কের বেহাল দশা এবং বেরিবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি প্রবেশ করে চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও জনপদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বেরিবাঁধ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী, চরহাজীপুর, চরহাটুর আলগী, হাজীপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন শাকসবজি ও ফসল উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়ছেন। অনেক কাঁচা শাকসবজি ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, আল-আমিন, শাহজাহানসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেরিবাঁধটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তারা দ্রুত বেরিবাঁধ সংস্কারের জোর দাবি জানান।

জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রুহিত বলেন, “বেরিবাঁধটি সংস্কারের জন্য বহুবার এলজিইডির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বের কথা বলে গড়িমসি করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী গালিব মোর্শেদ জানান, “ইতোমধ্যে বেরিবাঁধটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হোসেনপুরে চরাঞ্চলের বেরিবাঁধের বেহাল দশা

সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৬:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ জুন ২০২৫

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গড়বিশুদিয়া টু পোড়াবাড়িয়া হয়ে চরকাটিহারী ও চরহাজীপুর টু হাজিপুর বাজার পর্যন্ত বন্যাকবলিত চরাঞ্চল রক্ষায় নির্মিত বেরিবাঁধের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি প্রবেশ করে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বেরিবাঁধটি সংস্কারের জোর দাবি জানিয়েছেন।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকার কৃষি ফসল রক্ষার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক কয়েক যুগ আগে বেরিবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। কিছু বছর আগে এলজিইডির তত্ত্বাবধানে রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশ সংস্কার করা হলেও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

এই সড়কে প্রতিদিন শত শত ট্রাক, লরি, টমটম, অটোরিকশা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। প্রায় প্রতিদিনই সড়কের কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটছে। বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলও এখন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সড়কের বেহাল দশা এবং বেরিবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানি প্রবেশ করে চরাঞ্চলের ফসলি জমি ও জনপদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বেরিবাঁধ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জিনারী ইউনিয়নের চর কাটিহারী, চরহাজীপুর, চরহাটুর আলগী, হাজীপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন শাকসবজি ও ফসল উৎপাদিত হয়, যা স্থানীয় বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়ছেন। অনেক কাঁচা শাকসবজি ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম, আল-আমিন, শাহজাহানসহ অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেরিবাঁধটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তারা দ্রুত বেরিবাঁধ সংস্কারের জোর দাবি জানান।

জিনারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম রুহিত বলেন, “বেরিবাঁধটি সংস্কারের জন্য বহুবার এলজিইডির কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বের কথা বলে গড়িমসি করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী গালিব মোর্শেদ জানান, “ইতোমধ্যে বেরিবাঁধটি সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই সংস্কারকাজ শুরু হবে।