হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের সংঘর্ষ, চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর মৃত্যু
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৫:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
- / 104
বরিশালের গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালকদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সংঘর্ষ চলাকালীন হাসপাতালজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় প্রায় আধা ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকে। এই সময় হাসপাতালে আগত এক রোগীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ ওঠে। তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানান, হাসপাতালে আনার আগে রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স যত্রতত্র পার্কিং থাকায় রোগী ও স্বজনদের অসুবিধা পোহাতে হয়। সম্প্রতি হাসপাতালে যোগদানকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নির্দেশ দেন, প্রতিটি মালিক সর্বোচ্চ তিনটি অ্যাম্বুলেন্স কম্পাউন্ডে রাখতে পারবেন, বাকি বাইরে রাখতে হবে।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহতদের বরাত দিয়ে জানা যায়, দুপুর একটার দিকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক জাবেদ সেলিম অপর মালিক জামাল সিকদারের অ্যাম্বুলেন্সের একটি ভিতরে রাখার কথা বললে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এরপর হাতাহাতিতে পরিণত হয় এবং উভয়ের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালীন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগী ও স্বজনরা নিরাপদ স্থানে ছোটাছুটি শুরু করেন। এক পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যায়। নিহত হাফিজুর রহমান (৬০) উপজেলার দিয়াশুর গ্রামের নুর মোহাম্মদ আকনের ছেলে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, রোগী হাসপাতালে আনার আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
হামলার সময় আহত জাবেদ সেলিমের ভাই সালাম বেপারি জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশ অন্য চালকদের জানালে পরিকল্পিতভাবে জামাল সিকদার ও তার ছেলে হামলা চালিয়ে সেলিমকে মারধর করে। পরে সালাম ও তার স্বজনও আহত হন।
অপরদিকে জামাল সিকদারের ছেলে সাইদ সিকদার জানান, সেলিম ও তার সমর্থকরা তাঁদের উপর হামলা চালিয়ে সাইদ, তার বাবা ও ভাইসহ একাধিককে আহত করে।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাহতা জারাব সালেহিন বলেন, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে এবং রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





































