ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদির অবস্থার উন্নতি নেই

নিজস্ব প্রতিবদেক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 60

হাদির অবস্থার উন্নতি নেই

দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির শারীরিক অবস্থায় এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সংকটাপন্ন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে তার সংগঠন।

রোববার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, ওসমান হাদি এখনো ডিপ কোমায় আছেন। চিকিৎসকদের নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণকাল সোমবার রাতে শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, বড় কোনো পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি, তবে শরীরে কিছু অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। চিকিৎসকেরা যদি অবস্থা স্থিতিশীল বলে মনে করেন, তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এর আগেও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাদির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক এবং তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, একটি গুলি তার ডান কানের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই হাসপাতালে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হাদি ও খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেট থেকে আসা সোহেল আহমেদ বলেন, হাদি ও খালেদা জিয়া—দুজনের অবস্থার খোঁজ নিতেই তিনি সেখানে এসেছেন। তিনি বলেন, ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী মানুষ এবং যারা দেশের মঙ্গল চায় না, তারাই তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি নৃশংস ও নিন্দনীয়। একই সঙ্গে তিনি দুজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ওসমান হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার পর হাদির সমর্থকেরা পতিত আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনাটিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি পৃথক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারী সম্পর্কে তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করে এর মালিককে আটক করার তথ্যও দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

হাদির অবস্থার উন্নতি নেই

সর্বশেষ আপডেট ০২:১৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির শারীরিক অবস্থায় এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সংকটাপন্ন রয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে তার সংগঠন।

রোববার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, ওসমান হাদি এখনো ডিপ কোমায় আছেন। চিকিৎসকদের নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণকাল সোমবার রাতে শেষ হওয়ার কথা। এই সময়ের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, বড় কোনো পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি, তবে শরীরে কিছু অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া রয়েছে। চিকিৎসকেরা যদি অবস্থা স্থিতিশীল বলে মনে করেন, তাহলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এর আগেও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হাদির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক এবং তাকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

গত শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, একটি গুলি তার ডান কানের পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচার করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন। তার চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। একই হাসপাতালে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হাদি ও খালেদা জিয়ার খোঁজখবর নিতে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সিলেট থেকে আসা সোহেল আহমেদ বলেন, হাদি ও খালেদা জিয়া—দুজনের অবস্থার খোঁজ নিতেই তিনি সেখানে এসেছেন। তিনি বলেন, ওসমান হাদি একজন প্রতিবাদী মানুষ এবং যারা দেশের মঙ্গল চায় না, তারাই তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনাটি নৃশংস ও নিন্দনীয়। একই সঙ্গে তিনি দুজনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ওসমান হাদি গত বছরের আগস্টে ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারতের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেন এবং কোনো রাজনৈতিক দলে যোগ না দিয়ে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিনই তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার পর হাদির সমর্থকেরা পতিত আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার ঘটনাটিকে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি পৃথক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে।

এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান নামে একজনকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। হামলাকারী সম্পর্কে তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণার পাশাপাশি হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত করে এর মালিককে আটক করার তথ্যও দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।