হাওর-বিল-জলাভূমি সংরক্ষণের দাবি
- সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / 88
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের হাওর, খাল-বিল ও জলাভূমি সংরক্ষণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও পরিবেশবিদরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি)-এর উদ্যোগে রাজধানীর লালমাটিয়ায় অনুষ্ঠিত “সংকটে বাংলাদেশের বিল, হাওর ও জলাভূমি: জনগণের অংশগ্রহণে টেকসই সংরক্ষণ” শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুযায়ী সরকার যেকোনো জলাশয়কে সংরক্ষিত ঘোষণা করতে পারলেও বাস্তবে ভূমি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর সংরক্ষণ সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে হালতি বিল বা হাওর অঞ্চলকে হাওর বোর্ড চাইলেই সংরক্ষিত ঘোষণা করতে পারছে না। এই আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা অব্যাহত থাকলে জলাভূমি রক্ষার উদ্যোগ বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বক্তারা।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এএলআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার সানজিদা খান রিপা বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৯৭১ সালের জরিপ অনুযায়ী দেশে ৯৩ লাখ হেক্টর জলাভূমি থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় ৭০ শতাংশ কমে ২৮ লাখ হেক্টরে নেমে এসেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ১৯৯৬ সালে যেখানে ছিল ২৫ মিটার, ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছে ৮৬ মিটারে। তিনি জানান, ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ঢাকার ৮৫ শতাংশ জলাভূমি হারিয়ে গেছে এবং বর্তমানে রাজধানীর মোট আয়তনের মাত্র ৩ শতাংশ জলাভূমি অবশিষ্ট রয়েছে। এ সময় ঢাকার ৪৭টি খাল বিলুপ্ত হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের ইশতেহারে বিল, হাওর ও জলাভূমি সংকটের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা আজ সময়ের দাবি। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। উন্নয়ন হতে হবে নদীবান্ধব, জলাধারবান্ধব ও মানুষবান্ধব। তিনি পাঠ্যপুস্তকে পরিবেশ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, যুব সমাজ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
রিভারাইন পিপলস-এর সাধারণ সম্পাদক শেখ রোকন বলেন, বিশ্ব জলাভূমি দিবসের প্রতিপাদ্যে লোকায়ত জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জলাভূমি রক্ষায় নদী ও জলাভূমির পারস্পরিক সম্পর্ক বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
চলনবিল থেকে আগত গোলাম মোস্তফা বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইন ২০২৩ থাকলেও তাড়াশ উপজেলায় এর কোনো কার্যকর প্রয়োগ নেই। অবৈধ পুকুর খননের কারণে চলনবিলের প্রতিবেশ ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল হক বলেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে ভবিষ্যতে মারাত্মক পানিসংকট দেখা দিতে পারে। তিনি গঙ্গা ব্যারেজ নির্মাণের দাবি জানান।
বুয়েটের অধ্যাপক শাকিল আক্তার বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া নদী ও জলাভূমি সংরক্ষণ সম্ভব নয়। নাটোরের সৈয়দ মাহফুজ আলী হালতি বিল দখলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান।
সেমিনারে বক্তারা বিল, হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণকে জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা, নতুন সরকারের বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া, আইন প্রয়োগে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।




































