ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্বাভাবিক যৌনমিলনের সময়কাল কত হওয়া উচিত?

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১১:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
  • / 14590

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সেক্সুয়াল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি স্বাস্থ্যকর এবং সন্তোষজনক যৌনমিলনের আদর্শ সময়কাল গড়ে ৭ থেকে ১৩ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিহ্‌রেন্ড কলেজের গবেষক ড. ইরিক কোট্রি তার একটি পৃথক গবেষণায় জানিয়েছেন, মাত্র ৩ মিনিটের ভালোবাসা ও আবেগময় শারীরিক মিলনও যথেষ্ট এবং তা ‘পর্যাপ্ত’ হিসেবেই ধরা হয়।

এই গবেষণাগুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাইকৃত দম্পতিদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাদের কাছে ‘পেনিট্রেটিভ সেক্স’ অর্থাৎ যৌনাঙ্গ স্থাপন করে যৌনমিলনের গড় সময় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। অধিকাংশের মতে, ৭ থেকে ১৩ মিনিট সময়ের যৌনমিলন আদর্শ এবং সন্তোষজনক।

গবেষণার সারাংশে বলা হয়:

৩–৭ মিনিট = পর্যাপ্ত

৭–১৩ মিনিট = কাম্য/আদর্শ

৩ মিনিটের কম = খুবই কম

১৩ মিনিটের বেশি = অতিরিক্ত দীর্ঘ

গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল যৌনতা নিয়ে প্রচলিত কিছু অবাস্তব কল্পনা দূর করা। বিশেষ করে নারী-পুরুষের মনের মধ্যে গেঁথে থাকা একাধিক বিভ্রান্তিকর ধারণা—যেমন, পুরুষ সারারাত মিলনে সক্ষম হতে হবে বা নারী সবসময় যৌনভাবে সক্রিয় থাকবে—এসব ভুল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা।

যৌনমিলন (প্রতীকী)
যৌনমিলন (প্রতীকী)

অন্য একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, অঞ্চল, শিক্ষা, গায়ের রঙ, ও শারীরিক গঠনের ওপর যৌনমিলনের সময়কাল কিছুটা পরিবর্তিত হয়। যেমন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো (বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার)-এর গড় পেনিট্রেটিভ সেক্সের সময় প্রায় ৪ মিনিট। এই অঞ্চলের নারীরা অনেক সময় লজ্জা, ভয় বা ভুল ধারণার কারণে যৌনমিলনে সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়ায়, সম্পূর্ণ যৌন তৃপ্তি অর্জনের হার তুলনামূলকভাবে কম।

এ ছাড়া গবেষণায় আরও বলা হয়, যৌনমিলনের সময়কাল পুরুষের ইচ্ছার ওপর নয়, তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা যৌনক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের হারবাল বা উত্তেজক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এসব ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে পুরুষের স্বাভাবিক যৌনক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। হরমোনে প্রভাব ফেলায় পরবর্তীতে আর কোনো ওষুধই কার্যকর নাও হতে পারে।

যদি কারও দীর্ঘমেয়াদি যৌন সমস্যা থাকে, তাহলে বিশ্বস্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ করাই হবে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পথ। কারণ এটি ধীরে ধীরে সমস্যার মূল থেকে সমাধান দেয় এবং ভবিষ্যতে ওষুধ ছাড়াই স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।

যৌনতা একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক-মানসিক অভিজ্ঞতা। তাই এ বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা খুবই প্রয়োজন। যৌন জীবন উপভোগ করুন দায়িত্ব ও সচেতনতার সঙ্গে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্বাভাবিক যৌনমিলনের সময়কাল কত হওয়া উচিত?

সর্বশেষ আপডেট ১১:৪২:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব সেক্সুয়াল মেডিসিন-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, একটি স্বাস্থ্যকর এবং সন্তোষজনক যৌনমিলনের আদর্শ সময়কাল গড়ে ৭ থেকে ১৩ মিনিট পর্যন্ত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিহ্‌রেন্ড কলেজের গবেষক ড. ইরিক কোট্রি তার একটি পৃথক গবেষণায় জানিয়েছেন, মাত্র ৩ মিনিটের ভালোবাসা ও আবেগময় শারীরিক মিলনও যথেষ্ট এবং তা ‘পর্যাপ্ত’ হিসেবেই ধরা হয়।

এই গবেষণাগুলোতে বিভিন্ন দেশ থেকে বাছাইকৃত দম্পতিদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাদের কাছে ‘পেনিট্রেটিভ সেক্স’ অর্থাৎ যৌনাঙ্গ স্থাপন করে যৌনমিলনের গড় সময় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। অধিকাংশের মতে, ৭ থেকে ১৩ মিনিট সময়ের যৌনমিলন আদর্শ এবং সন্তোষজনক।

গবেষণার সারাংশে বলা হয়:

৩–৭ মিনিট = পর্যাপ্ত

৭–১৩ মিনিট = কাম্য/আদর্শ

৩ মিনিটের কম = খুবই কম

১৩ মিনিটের বেশি = অতিরিক্ত দীর্ঘ

গবেষণার উদ্দেশ্য ছিল যৌনতা নিয়ে প্রচলিত কিছু অবাস্তব কল্পনা দূর করা। বিশেষ করে নারী-পুরুষের মনের মধ্যে গেঁথে থাকা একাধিক বিভ্রান্তিকর ধারণা—যেমন, পুরুষ সারারাত মিলনে সক্ষম হতে হবে বা নারী সবসময় যৌনভাবে সক্রিয় থাকবে—এসব ভুল চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা।

যৌনমিলন (প্রতীকী)
যৌনমিলন (প্রতীকী)

অন্য একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, অঞ্চল, শিক্ষা, গায়ের রঙ, ও শারীরিক গঠনের ওপর যৌনমিলনের সময়কাল কিছুটা পরিবর্তিত হয়। যেমন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো (বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার)-এর গড় পেনিট্রেটিভ সেক্সের সময় প্রায় ৪ মিনিট। এই অঞ্চলের নারীরা অনেক সময় লজ্জা, ভয় বা ভুল ধারণার কারণে যৌনমিলনে সক্রিয় ভূমিকা না নেওয়ায়, সম্পূর্ণ যৌন তৃপ্তি অর্জনের হার তুলনামূলকভাবে কম।

এ ছাড়া গবেষণায় আরও বলা হয়, যৌনমিলনের সময়কাল পুরুষের ইচ্ছার ওপর নয়, তার শারীরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে। তাই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা যৌনক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের হারবাল বা উত্তেজক ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। এসব ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে পুরুষের স্বাভাবিক যৌনক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। হরমোনে প্রভাব ফেলায় পরবর্তীতে আর কোনো ওষুধই কার্যকর নাও হতে পারে।

যদি কারও দীর্ঘমেয়াদি যৌন সমস্যা থাকে, তাহলে বিশ্বস্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ করাই হবে স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পথ। কারণ এটি ধীরে ধীরে সমস্যার মূল থেকে সমাধান দেয় এবং ভবিষ্যতে ওষুধ ছাড়াই স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।

যৌনতা একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক-মানসিক অভিজ্ঞতা। তাই এ বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা খুবই প্রয়োজন। যৌন জীবন উপভোগ করুন দায়িত্ব ও সচেতনতার সঙ্গে।