স্তব্ধ বাংলাদেশ পালন হচ্ছে রাষ্ট্রীয় শোক
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫
- / 270
ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে শিশু শিক্ষার্থীসহ ২৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সারাদেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তার আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের বিষয়টি জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়—“বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষের মর্মান্তিক মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গভীরভাবে শোকাহত। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।”
শোক দিবস উপলক্ষে আজ দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। এছাড়া দেশের সব মসজিদে নিহতদের রূহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হচ্ছে। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতেও আয়োজন চলছে বিশেষ প্রার্থনার।
গতকাল সোমবার দুপুর ১টার কিছু পর বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে ভবন ও বিমানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ ওই সময় ক্লাস ও বিশ্রামে ছিল। আগুন ও ধ্বংসস্তূপে অনেকেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারও ব্যবহৃত হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে ২৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জনই শিশু শিক্ষার্থী। আহতদের সংখ্যা শতাধিক, যাদের অনেকেই ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক।
আইএসপিআর জানিয়েছে, অন্তত আটটি মরদেহ ইতোমধ্যে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, “এই দুর্ঘটনা জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নিহতদের আত্মার শান্তি ও আহতদের আরোগ্য কামনায় সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আজ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।”
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটির প্রশিক্ষক পাইলট তৌকির আহমেদ দুর্ঘটনার আগমুহূর্তে সহকর্মীকে মেসেজ দিয়ে বলেন, “আমি আসছি, দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।” এরপরই শুরু হয় ট্র্যাজেডি। পাইলটসহ স্কুলের শিক্ষিকা এবং ২৫ জন শিক্ষার্থীর জীবন থেমে যায় সেই দুপুরে।
































