ঢাকা ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অর্থ কেলেঙ্কারি

স্কুল শিক্ষক বাবার নামে অর্ধশত কোটি টাকার ব্যবসা! (পর্ব-১)

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫
  • / 10205

জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ (বায়ে) স্ত্রী ফাল্গুনি নুপুর ও স্কুল শিক্ষক বাবা আলাউদ্দিন খাঁন

আলাউদ্দিন খাঁন। পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত চর কুডুলিয়া গ্রামের একটি এমপিওভুক্ত স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদে থেকেই চাকরি জীবন শেষ করেন। তবে চাকরি জীবন শেষ করেই সোনার হরিণ হাতে পেয়ে যান সামান্য বেতনের এই শিক্ষক। রাজধানীতে গড়ে তুলেছেন অর্ধশত কোটি টাকার রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ সংস্থা কোম্পানি।

আলাউদ্দিন খাঁনের প্রতিষ্ঠানের নাম এনএন সার্ভিস এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। ভবন নির্মাণ ছাড়াও এই কোম্পানির রয়েছে ঠিকাদারি, মালামাল সরবরাহ ও আইটি’র ব্যবসা। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন খাঁন নিজেই। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার পুত্রবধূ ফালগুনি নুপুর; যিনি পেশায় গৃহিনী।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন সামান্য বেতনের স্কুল শিক্ষক ও গৃহিনী মিলে কিভাবে এতো বড় একটি কোম্পানি গড়ে তুললেন। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।

একটু অনুসন্ধানেই বেড়িয়ে এসেছে একজন স্কুল শিক্ষক ও গৃহিনীর এতো সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার পেছনের গল্প!

জানা যায়, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের অবৈধভাবে বানানো অর্থ দিয়েই স্কুল শিক্ষক বাবা ও গৃহিনী স্ত্রীর নামে অর্ধশত কোটি টাকার কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। সরকারী চাকরিজীবী হওয়ায় নিজের নামে কোম্পানি করতে না পেরে এই পথ অবলম্বন করেছেন তিনি। যেখানে তিনি রয়েছেন একজন উপদেষ্টা হিসেবে। উপদেষ্টা হলেও পুরো কোম্পানি পরিচালনা করেন সুলতান নিজেই।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদের স্ত্রী ফালগুনি নুপুর
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদের স্ত্রী ফালগুনি নুপুর

কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদের পিতা আলাউদ্দিন খাঁন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্ত্রী ফালগুনি নুপুর। আর সুলতান মাহমুদ কোম্পানির একজন বেতনভুক্ত উপদেষ্টা। যা সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমনকি এটি দুর্নীতির প্রমাণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক আলামত হিসেবেও ধরা যেতে পারে।

মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, বর্তমানে গাজীপুরে ১০ কাঠার উপরে ১০তলা দুটি ভবন, টঙ্গীতে ১০ কাঠা জমিতেও ১০ তলা একটি ভবন, সাভারে ৫ কাঠা জমিতে ৮তলা আরেকটি ভবনের কাজ নিজ অর্থায়নে চলমান। এছাড়া সম্প্রতি সাভারে ৫ কাঠার ওপর ৮তলা একটি ভবনের কাজ শেষ করেছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার মূলধন প্রয়োজন।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং একজন গৃহিণী হিসেবে কোম্পানি গঠনে যত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা তাদের ব্যক্তিগত আয় ও সম্পদের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জানান, তারা জমির মালিকের সাথে অর্ধেক শেয়ারের শর্তে ভবনগুলো নির্মাণ করছেন। তার যুক্তি আগাম ফ্ল্যাট বিক্রির টাকায় তারা কাজ সম্পন্ন করেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, এটা কোনভাবেই সম্ভব না। হয়তো ফ্ল্যাট বিক্রির টাকায় কিছু কাজ করা যায় কিন্তু সেটা দিয়ে পুরো কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ঠিকানা বনানী ১৫ নম্বর রোডের ডি ব্লকের ৩৭ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায়। মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জানান, এই বাড়িটি নির্মাণে তারা পরামর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। আর বর্তমানে প্রায় ২২শ’ স্কয়ার ফিটের যে ফ্ল্যাটটিতে তাদের অফিস সেটি ভাড়ায় নেয়া। কিন্তু ভবনের দাড়োয়ান জানিয়েছেন, এটি সুলতান সাহেবের কেনা ফ্ল্যাট। যেটির দাম অন্তত ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। সুলতান সাহেব সপ্তাহের অন্তত ৩-৪ দিন দুপুরের পর এখানে আসেন।

বনানীর এই ফ্ল্যাটে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়
বনানীর এই ফ্ল্যাটে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়

মহাব্যবস্থাপক জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান বয়োস্ক হওয়ায় অফিসে আসেন না। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসে এক বা দুইবার অফিস করেন। তবে সুলতান সাহেব প্রায়ই আসেন। তিনি কোম্পানির প্রকল্পগুলোর নকশা তৈরী করে অর্থ নেন এবং উপদেষ্টা হিসেবে সম্মানী নেন। তবে কতটাকা সম্মানী নেন তা জানাননি।

কোম্পানির গঠন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রের যে অর্থের প্রয়োজন সেটি কোথায় পেয়েছেন, জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফালগুনি নুপুর বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে- এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত চর কুডুলিয়া গ্রামে জন্ম সুলতান মাহমুদের। ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিজীবন শুরু। ২০১১ সালে মাগুরা এবং ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের তালিকায় সুলতান মাহমুদ
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের তালিকায় সুলতান মাহমুদ

এ ছাড়াও ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারী থেকে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি  টঙ্গীতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এরপর জামালপুর, রাঙামাটি। যেখানেই দায়িত্বপালন করেছেন সেখানেই দুর্নীতি ও অনিয়মের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন এই প্রকৌশলী। আর এক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদকে। তিনি নিজেও ওই সংগঠনের সদস্য ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বর্তমানে এই কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুলতান মাহমুদের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

চলবে..

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর অর্থ কেলেঙ্কারি

স্কুল শিক্ষক বাবার নামে অর্ধশত কোটি টাকার ব্যবসা! (পর্ব-১)

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৬:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই ২০২৫

আলাউদ্দিন খাঁন। পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত চর কুডুলিয়া গ্রামের একটি এমপিওভুক্ত স্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষকের পদে থেকেই চাকরি জীবন শেষ করেন। তবে চাকরি জীবন শেষ করেই সোনার হরিণ হাতে পেয়ে যান সামান্য বেতনের এই শিক্ষক। রাজধানীতে গড়ে তুলেছেন অর্ধশত কোটি টাকার রিয়েল এস্টেট ও নির্মাণ সংস্থা কোম্পানি।

আলাউদ্দিন খাঁনের প্রতিষ্ঠানের নাম এনএন সার্ভিস এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। ভবন নির্মাণ ছাড়াও এই কোম্পানির রয়েছে ঠিকাদারি, মালামাল সরবরাহ ও আইটি’র ব্যবসা। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন খাঁন নিজেই। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার পুত্রবধূ ফালগুনি নুপুর; যিনি পেশায় গৃহিনী।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন সামান্য বেতনের স্কুল শিক্ষক ও গৃহিনী মিলে কিভাবে এতো বড় একটি কোম্পানি গড়ে তুললেন। এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব।

একটু অনুসন্ধানেই বেড়িয়ে এসেছে একজন স্কুল শিক্ষক ও গৃহিনীর এতো সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার পেছনের গল্প!

জানা যায়, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদের অবৈধভাবে বানানো অর্থ দিয়েই স্কুল শিক্ষক বাবা ও গৃহিনী স্ত্রীর নামে অর্ধশত কোটি টাকার কোম্পানি গড়ে তুলেছেন। সরকারী চাকরিজীবী হওয়ায় নিজের নামে কোম্পানি করতে না পেরে এই পথ অবলম্বন করেছেন তিনি। যেখানে তিনি রয়েছেন একজন উপদেষ্টা হিসেবে। উপদেষ্টা হলেও পুরো কোম্পানি পরিচালনা করেন সুলতান নিজেই।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদের স্ত্রী ফালগুনি নুপুর
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান মাহমুদের স্ত্রী ফালগুনি নুপুর

কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদের পিতা আলাউদ্দিন খাঁন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার স্ত্রী ফালগুনি নুপুর। আর সুলতান মাহমুদ কোম্পানির একজন বেতনভুক্ত উপদেষ্টা। যা সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি কর্মচারী হিসেবে এ ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এমনকি এটি দুর্নীতির প্রমাণ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক আলামত হিসেবেও ধরা যেতে পারে।

মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, বর্তমানে গাজীপুরে ১০ কাঠার উপরে ১০তলা দুটি ভবন, টঙ্গীতে ১০ কাঠা জমিতেও ১০ তলা একটি ভবন, সাভারে ৫ কাঠা জমিতে ৮তলা আরেকটি ভবনের কাজ নিজ অর্থায়নে চলমান। এছাড়া সম্প্রতি সাভারে ৫ কাঠার ওপর ৮তলা একটি ভবনের কাজ শেষ করেছে। এসব কাজ বাস্তবায়নে অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার মূলধন প্রয়োজন।

বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক এবং একজন গৃহিণী হিসেবে কোম্পানি গঠনে যত টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা তাদের ব্যক্তিগত আয় ও সম্পদের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জানান, তারা জমির মালিকের সাথে অর্ধেক শেয়ারের শর্তে ভবনগুলো নির্মাণ করছেন। তার যুক্তি আগাম ফ্ল্যাট বিক্রির টাকায় তারা কাজ সম্পন্ন করেন।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, এটা কোনভাবেই সম্ভব না। হয়তো ফ্ল্যাট বিক্রির টাকায় কিছু কাজ করা যায় কিন্তু সেটা দিয়ে পুরো কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান ঠিকানা বনানী ১৫ নম্বর রোডের ডি ব্লকের ৩৭ নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায়। মহাব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম জানান, এই বাড়িটি নির্মাণে তারা পরামর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। আর বর্তমানে প্রায় ২২শ’ স্কয়ার ফিটের যে ফ্ল্যাটটিতে তাদের অফিস সেটি ভাড়ায় নেয়া। কিন্তু ভবনের দাড়োয়ান জানিয়েছেন, এটি সুলতান সাহেবের কেনা ফ্ল্যাট। যেটির দাম অন্তত ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। সুলতান সাহেব সপ্তাহের অন্তত ৩-৪ দিন দুপুরের পর এখানে আসেন।

বনানীর এই ফ্ল্যাটে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়
বনানীর এই ফ্ল্যাটে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়

মহাব্যবস্থাপক জানান, কোম্পানির চেয়ারম্যান বয়োস্ক হওয়ায় অফিসে আসেন না। আর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসে এক বা দুইবার অফিস করেন। তবে সুলতান সাহেব প্রায়ই আসেন। তিনি কোম্পানির প্রকল্পগুলোর নকশা তৈরী করে অর্থ নেন এবং উপদেষ্টা হিসেবে সম্মানী নেন। তবে কতটাকা সম্মানী নেন তা জানাননি।

কোম্পানির গঠন এবং পরিচালনার ক্ষেত্রের যে অর্থের প্রয়োজন সেটি কোথায় পেয়েছেন, জানতে চাইলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফালগুনি নুপুর বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে- এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার প্রত্যন্ত চর কুডুলিয়া গ্রামে জন্ম সুলতান মাহমুদের। ২০১১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিজীবন শুরু। ২০১১ সালে মাগুরা এবং ২০১৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে যান্ত্রিক ও বৈদ্যুতিক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের তালিকায় সুলতান মাহমুদ
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের তালিকায় সুলতান মাহমুদ

এ ছাড়াও ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারী থেকে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি  টঙ্গীতে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এরপর জামালপুর, রাঙামাটি। যেখানেই দায়িত্বপালন করেছেন সেখানেই দুর্নীতি ও অনিয়মের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন এই প্রকৌশলী। আর এক্ষেত্রে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদকে। তিনি নিজেও ওই সংগঠনের সদস্য ছিলেন।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর এই কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে। বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বর্তমানে এই কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে রয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সুলতান মাহমুদের সাথে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

চলবে..