ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্কুল মাঠ কেটে তৈরি হচ্ছে শিশুপার্ক, ঝুঁকিতে শিশু ও ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 174

স্কুল মাঠ কেটে তৈরি হচ্ছে শিশুপার্ক, ঝুঁকিতে শিশু ও ভবন

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের মাটি কেটে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেরাই উপস্থিত থেকে মাটি কাটার কাজ তদারকি করেছেন। প্রশাসনের দাবি, মাঠের মাটি কেটে একটি মিনি শিশুপার্ক তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু গভীর গর্ত এবং ধসে পড়া মাটির কারণে দুই স্কুলের ভবন ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে চর আষাড়িয়াদহের কানাপাড়া প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মাটি কেটে অন্যত্র ফেলা হয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গর্ত এখন গভীর পুকুরে পরিণত হয়েছে, যা খেলতে যাওয়া শিশুদের জন্য বিপদজনক।

স্থানীয় বাসিন্দা আঙ্গুর হোসেন অভিযোগ করেছেন, “হঠাৎ এত বড় গর্ত খোঁড়া হলো। কেউ কিছু জানে না। বাচ্চারা যে কোনো সময় পড়ে গিয়ে আহত বা প্রাণ হারাতে পারে।”

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. সামিম জানিয়েছেন, “এ গর্তে ইতিমধ্যেই দুই শিশু পড়ে গিয়েছিল। স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছে তারা। ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফতাব উদ্দিন বলেন, “আমি ইউএনওকে অনুরোধ করেছিলাম অন্য জায়গা থেকে মাটি আনার জন্য। কিন্তু ইউএনও আশ্বস্ত করেছিলেন, পরে ভরাট করে দেবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ওপর ভরসা করতে পারছেন না?’।”

কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলীও অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান সরকারি কাজে মাটি প্রয়োজন বলে বলেছিলেন। আপত্তি জানালেও কাজ থামানো হয়নি। তিনি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম বেশি গভীর হবে না, কিন্তু এখন আমার বিদ্যালয়ও ঝুঁকির মুখে।”

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা জানিয়েছেন, “স্কুলের জায়গাতেই মিনি শিশুপার্ক তৈরি হচ্ছে। বন্যার কারণে অন্য কোথাও মাটি পাওয়া যায়নি। শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেই কাজ করা হয়েছে। মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “খেলনা বসানোর জন্য মাঠে মাটি ভরাট প্রয়োজন। বর্ষার কারণে অন্য জায়গা থেকে মাটি আনা সম্ভব হয়নি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল মাঠ ভরাট করে দেওয়া। তবে চেয়ারম্যান বেশি গভীর খনন করেছেন। বিষয়টি দেখা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

স্কুল মাঠ কেটে তৈরি হচ্ছে শিশুপার্ক, ঝুঁকিতে শিশু ও ভবন

সর্বশেষ আপডেট ১২:০২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দুই বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের মাটি কেটে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেরাই উপস্থিত থেকে মাটি কাটার কাজ তদারকি করেছেন। প্রশাসনের দাবি, মাঠের মাটি কেটে একটি মিনি শিশুপার্ক তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু গভীর গর্ত এবং ধসে পড়া মাটির কারণে দুই স্কুলের ভবন ঝুঁকিতে পড়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে চর আষাড়িয়াদহের কানাপাড়া প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মাটি কেটে অন্যত্র ফেলা হয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গর্ত এখন গভীর পুকুরে পরিণত হয়েছে, যা খেলতে যাওয়া শিশুদের জন্য বিপদজনক।

স্থানীয় বাসিন্দা আঙ্গুর হোসেন অভিযোগ করেছেন, “হঠাৎ এত বড় গর্ত খোঁড়া হলো। কেউ কিছু জানে না। বাচ্চারা যে কোনো সময় পড়ে গিয়ে আহত বা প্রাণ হারাতে পারে।”

চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. সামিম জানিয়েছেন, “এ গর্তে ইতিমধ্যেই দুই শিশু পড়ে গিয়েছিল। স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছে তারা। ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।”

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফতাব উদ্দিন বলেন, “আমি ইউএনওকে অনুরোধ করেছিলাম অন্য জায়গা থেকে মাটি আনার জন্য। কিন্তু ইউএনও আশ্বস্ত করেছিলেন, পরে ভরাট করে দেবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার ওপর ভরসা করতে পারছেন না?’।”

কানাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজগর আলীও অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যান সরকারি কাজে মাটি প্রয়োজন বলে বলেছিলেন। আপত্তি জানালেও কাজ থামানো হয়নি। তিনি বলেন, “প্রথমে ভেবেছিলাম বেশি গভীর হবে না, কিন্তু এখন আমার বিদ্যালয়ও ঝুঁকির মুখে।”

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম ভোলা জানিয়েছেন, “স্কুলের জায়গাতেই মিনি শিশুপার্ক তৈরি হচ্ছে। বন্যার কারণে অন্য কোথাও মাটি পাওয়া যায়নি। শিক্ষক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেই কাজ করা হয়েছে। মাটি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “খেলনা বসানোর জন্য মাঠে মাটি ভরাট প্রয়োজন। বর্ষার কারণে অন্য জায়গা থেকে মাটি আনা সম্ভব হয়নি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল মাঠ ভরাট করে দেওয়া। তবে চেয়ারম্যান বেশি গভীর খনন করেছেন। বিষয়টি দেখা হচ্ছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”