সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫
- / 61
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বালু মহাল ও স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজের দখল নিয়ে বিএনপি নেতা দুই ভাইয়ের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টা থেকে টানা তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রউফ ও তার ছোট ভাই পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাজ, রাস্তা সংস্কার ও জুট ব্যবসার দখল নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ঘটনার সময় উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন। সংঘর্ষের মধ্যে চারটি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুন নেভাতে গেলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ওপরও ইটপাটকেল ছোড়া হয়।
সোনারগাঁ ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার জাহেদুল ইসলাম বলেন, একটি বাড়িতে আগুন নেভানোর সময় আরেকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় সব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন আব্দুল জব্বারের সমর্থক রানা মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আব্দুর রউফপন্থিরা পালিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যদের আশ্রয় দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছেন। অপরদিকে জলিলপন্থিরা অভিযোগ করেছেন, রউফপন্থিরা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং কয়েকটি ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে।
সোনারগাঁ থানার এসআই সারোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, দুই পক্ষের সমর্থকরা একে অপরের বাড়িতে আগুন দিয়েছেন। আগুন নেভাতে গেলে পুলিশের ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপির দুই নেতা আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিলকে থানায় আনা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা না থাকে।
































