সোনা চোরাচালান: কাস্টমসে অপরাধী, বিমানে নির্দোষ
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৩৬:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
- / 7168
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রুদের সোনা চোরাচালানে যুক্ত থাকার বিষয়টি নতুন নয়। কেউ ধরা পরছেন, আবার কেউ অধরাই থেকে যাচ্ছেন। এমনকি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের কেবিন ক্রুদের বিরুদ্ধেও প্রায়ই পাওয়া যায় এমন অভিযোগ।
এসব ঘটনায় নিয়ম করে মামলা, তদন্ত সবই হচ্ছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এদেরকে দোষী করলেও বিমান থেকে পেয়ে যাচ্ছেন নির্দোষ সার্টিফিকেট বা দায়মুক্তি।
জানা যায়, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দরে কাস্টমসের কাছে স্বর্ণসহ আটক হন কেবিন ক্রু মর্জিনা আক্তার এলিন। সেসময় কাস্টমসের কাছে লিখিত আকারে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন এলিন।
এরপর বিমানের কাছে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয় কাস্টমস কর্মকর্তারা। এর জেরে এলিনকে সাময়িক বরখাস্ত করার পাশাপাশি শুরু হয় তদন্ত। দীর্ঘ তদন্ত শেষে, ২৭ আগস্ট তাঁকে নির্দোষ আখ্যা দিয়ে দায়মুক্তি দিয়েছে বিমানের প্রশাসন বিভাগ।
এমন পরিস্থিতিতে বিমানের তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কাস্টমস আটকের পর যেখানে নিজেই স্বর্ণ বহনের বিষয়টি স্বীকার করে নিলেন, সেখানে সম্পূর্ণ নির্দোষ আখ্যা দেয়াটা সাংঘর্ষিক।

এ বিষয়ে কাস্টমস এর যুগ্ম কমিশনার কামরুল হাসান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, সোনাসহ আটকের পর নিয়ম অনুযায়ি কেবিন ক্রু এলিনের বিষয়টি বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে তাকে নির্দোষ আখ্যা দেয়ার বিষয়টি তারা অবগত নয়। এ নিয়ে কাস্টমসের উর্ধ্বতনদের সাথে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
কাস্টমস কমিশনার মশিউর রহমান বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, তিনি নতুন এসেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নয়। তবে এটি ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
স্বর্ণ নিয়ে কেবিন ক্রুদের আটকের ঘটনা শুধু একটি নয়। চলতি বছরের ১৩ মে রিয়াদ থেকে দেশে ফেরার পর কাস্টমস বিমানবন্দরে কেবিন ক্রু ও ফ্লাইট পার্সার হোসনে আরার কাছ থেকে তিনটি সোনার চুড়ি জব্দ করে। ঘটনার পর তাঁকে সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করা হলেও পরে আবার ফ্লাইটে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, তদন্তে প্রমাণ মিললেও প্রশাসনের বিশেষ তদবিরে তাকেও ‘নির্দোষ’ বানানো হচ্ছে।
সবশেষ ৪ আগস্ট শাহজালাল বিমানবন্দরে সোনা ও আইফোনসহ আটক হন কেবিন ক্রু রুদাবা। আটক হওয়ার পর তাঁকে বরখাস্ত করা হলেও তাকেও মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা।
এসব বিষয়ে বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম বাংলা অ্যাফেয়ার্সকে জানান, একাধিকবার তদন্ত করেই একটি রায় দেয়া হয়।
আরো পড়তে পারেন




































