সেন্টমার্টিনে জাহাজ চালাবে না মালিকরা
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
- / 159
কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপ আগামীকাল শনিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ৯ মাস পর দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন। তবে নভেম্বর মাসে পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসবেন, আর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে দৈনিক দুই হাজার পর্যটক রাতযাপনের সুযোগ পাবেন।
নভেম্বরে রাতে অবস্থানের সুযোগ না থাকায় জাহাজমালিকরা কাল থেকে জাহাজ চালানো শুরু না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, পর্যাপ্ত পর্যটক না থাকায় নভেম্বর মাসে জাহাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকরা দ্বীপে রাতযাপন করতে পারবেন, সে জন্য প্রস্তুতি চলছে।
সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াত গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ ছিল। সরকার দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সীমিত পর্যটক ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বীপে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও জাহাজমালিকরা জানান, যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ সময় লাগে, তাই রাতযাপন ছাড়া পর্যটকদের আগ্রহ কম থাকে।
দীর্ঘদিন পর্যটকশূন্য থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় ৫০০ পরিবারকে সরকার ১১ হাজার ৪০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। সেন্ট মার্টিনে বনায়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পানীয় জলের সমস্যা নিরসন, বেওয়ারিশ কুকুরের বন্ধ্যা কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নতুন জেটি নির্মাণসহ শতকোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প চলছে।
পর্যটকদের জন্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ১২টি নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিআইডব্লিউটিএ ও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচল করা যাবে না, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবপোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ বাধ্যতামূলক, সৈকতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি নিষিদ্ধ, কেয়াবনে প্রবেশ বা জীববৈচিত্র্য ক্ষতি করা যাবে না এবং মোটরচালিত যানবাহন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিক বহন করতে দেওয়া হবে না।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে জেলা প্রশাসন কাজ করবে।
































