ঢাকা ০২:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংঘর্ষে নিহত চারজন

সাঁজোয়া যানে গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
  • সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
  • / 282

সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ‘ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গোপালগঞ্জে রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে।

নিহত চারজনের লাশ হাসপাতালে

গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন, সংঘর্ষে নিহত চারজনের মৃতদেহ তাদের হাসপাতালে এসেছে এবং তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে সংখ্যাটা অনেক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও কারফিউ

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে জেলা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কারফিউ দেওয়া হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্য

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানান, “আমরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। লিথ্যাল কোনো অস্ত্র ব্যবহার করছি না, তাই একটু সময় লাগছে। রিইনফোর্সমেন্ট পাঠানো হয়েছে।”

গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি

সরকার ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সংঘর্ষের পেছনে দায় নিয়ে চলছে তীব্র বাকযুদ্ধ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এনসিপি’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে এবং পুলিশের গাড়ি ও গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সরকার এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগকে দায়ী করে জানিয়েছে, দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

অন্যদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা সেনা ও পুলিশের পাহারায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

সারজিস আলম একটি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে খুনি হাসিনার দালালেরা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে, পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখেছে।” তিনি দেশের মানুষকে গোপালগঞ্জে ছুটে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন।

আখতার হোসেন বলেন, “আমাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্লিপ্ত ছিল। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়েছে। মসজিদের মাইক থেকে সন্ত্রাসীদের জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।”

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী দোসররা অরাজকতা ছড়িয়ে দিয়ে ইন্টারিম গভর্নমেন্টকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। হামলার দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গোপালগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা স্থানীয় ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সংঘর্ষে নিহত চারজন

সাঁজোয়া যানে গোপালগঞ্জ ছাড়লেন এনসিপি নেতারা

সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ‘ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গোপালগঞ্জে রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে।

নিহত চারজনের লাশ হাসপাতালে

গোপালগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জীবিতেশ বিশ্বাস নিশ্চিত করেছেন, সংঘর্ষে নিহত চারজনের মৃতদেহ তাদের হাসপাতালে এসেছে এবং তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে সংখ্যাটা অনেক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও কারফিউ

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে জেলা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কারফিউ দেওয়া হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্য

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানান, “আমরা ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি। লিথ্যাল কোনো অস্ত্র ব্যবহার করছি না, তাই একটু সময় লাগছে। রিইনফোর্সমেন্ট পাঠানো হয়েছে।”

গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে হামলা
গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি

সরকার ও এনসিপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সংঘর্ষের পেছনে দায় নিয়ে চলছে তীব্র বাকযুদ্ধ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এনসিপি’র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে এবং পুলিশের গাড়ি ও গণমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সরকার এই হামলার জন্য আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগকে দায়ী করে জানিয়েছে, দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

অন্যদিকে, এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমসহ শীর্ষ নেতারা সেনা ও পুলিশের পাহারায় গোপালগঞ্জ ত্যাগ করেন।

নেতাদের প্রতিক্রিয়া

সারজিস আলম একটি ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে খুনি হাসিনার দালালেরা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে, পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখেছে।” তিনি দেশের মানুষকে গোপালগঞ্জে ছুটে আসার আহ্বানও জানিয়েছেন।

আখতার হোসেন বলেন, “আমাদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে। শুরুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্লিপ্ত ছিল। পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়েছে। মসজিদের মাইক থেকে সন্ত্রাসীদের জড়ো হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।”

বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী দোসররা অরাজকতা ছড়িয়ে দিয়ে ইন্টারিম গভর্নমেন্টকে বেকায়দায় ফেলতে চায়। হামলার দায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গোপালগঞ্জের ঘটনার প্রতিবাদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। তারা স্থানীয় ছাত্রসংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।