সেনা কর্মকর্তাদের অপরাধের বিচার কিভাবে হবে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৫৯:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
- / 277
গত বছরের আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনের তোপে প্রধানমন্ত্রী দেশ থেকে পালিয়ে যান। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামল। দেড় দশক ক্ষমতায় থেকে গুমের মাধ্যমে অসংখ্য মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে আওয়ামী লীগ।
এই অভিযোগে দায়ের হওয়া দুটি মামলায় প্রধানমন্ত্রীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে বুধবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা রয়েছেন।
সেনা কর্মকর্তাদের বাইরে অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন – ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এবং র্যাবের দুইজন সাবেক মহাপরিচালক।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করতে হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এত বড় সংখ্যক সেনা কর্মকর্তার অভিযুক্ত হওয়ার ঘটনা বিরল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর জানান, ৩০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা।
প্রশ্ন উঠেছে, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ এলে কোন আইন প্রযোজ্য হবে। সামরিক আইনে সামরিক আদালতে নাকি প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার হবে, এমন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে একটি সংশোধনী এনেছে। ওই সংশোধনীর অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে সেই ব্যক্তি সরকারি চাকরিজীবী থাকলে পদে থাকবেন না।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় এর আগে এমন উদাহরণ রয়েছে। ২০১৪ সালে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলায় তিনজন র্যাব অধীনস্ত সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। তখন তারা সেনাবাহিনী থেকে অবসরে পাঠানো হয় এবং পরে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে বিচার করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “সেনাবাহিনীর সদস্য যদি পেশাগত কাজে অপরাধ করেন, তাহলে সামরিক আইনে বিচার হবে। কিন্তু সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ করলে বিচার সাধারণ আদালতে হবে। এর আগে এমন একাধিক নজির রয়েছে।”
সূত্র: বিবিসি বাংলা
































