সূর্য সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২২:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / 135
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। রাতের অন্ধকার পেরিয়ে রক্তিম সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় পুরো জাতি। স্বাধীনতার সূর্যসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। প্রতি বছরের মতো এবারও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত করতে মাসব্যাপী শ্রমে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা।
যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা, তাদের স্মরণে ১০৮ হেক্টর বিস্তৃত সবুজ প্রাঙ্গণজুড়ে ফুটে উঠেছে নান্দনিক সৌন্দর্য। রং-তুলির নতুন আঁচড়, পরিপাটি বাগান আর বর্ণিল আলোকসজ্জায় মোড়া স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী এখন অপেক্ষায়—লাখো মানুষের ফুলেল ভালোবাসায় আবৃত হওয়ার।
বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে এই পবিত্র প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিন বাহিনীর সমন্বয়ে সুসজ্জিত গার্ড অব অনার প্রদান শেষে শ্রদ্ধা জানাবেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো মানুষ ফুল হাতে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। প্রবীণদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও একই কাতারে দাঁড়িয়ে বিনম্রচিত্তে স্মরণ করবে জাতির সূর্যসন্তানদের।
দীর্ঘ এক মাস ধরে শতাধিক পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মীরা নিবিড় পরিশ্রমে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণকে সাজিয়ে তুলেছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বলেন,
“আমরা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি, কিন্তু যাদের ত্যাগে আমরা স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছি, তাদের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষা করতে পেরে আমরা গর্বিত।”
জাতীয় স্মৃতিসৌধের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন আনু জানান, লাল-সবুজ ফুলে সাজানো হয়েছে বাগানগুলো। চত্বরের সিঁড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় নতুন রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুরো এলাকায় বসানো হয়েছে নানান রঙের আলোকসজ্জা।
বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, এবছর চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রায় ২৩ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে ১৩টি সেক্টরের মাধ্যমে চার হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
সাভারের আমিনবাজার থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভেতরে ও বাইরে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা, স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা চৌকি। কয়েকশ’ নিরাপত্তাকর্মী ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। লাখো মানুষের ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে উঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ—এই প্রত্যাশায় বিজয়ের প্রহর গুনছে পুরো জাতি।



































