সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রতিদিন কখন ও কতটি ফল খাবেন
- সর্বশেষ আপডেট ০১:১৭:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
- / 91
শীতের হালকা আমেজে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সর্দি-কাশি, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, ত্বক শুষ্কতা ও চুল পড়ার মতো নানা সমস্যা। চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা বলছেন, এসব মৌসুমি সমস্যা মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো শরীর আর্দ্র রাখা এবং প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের দৈনন্দিন ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণে প্রতিদিন অন্তত ৪০০ গ্রাম শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্তত দুটি মৌসুমি ফল থাকা উচিত—একটি সাইট্রাস জাতীয় ফল (যেমন লেবু, কমলা, জাম্বুরা) এবং অন্যটি ভিটামিন–এ সমৃদ্ধ ফল (যেমন পাকা পেঁপে, কতবেল, আমড়া)।
পুষ্টিবিদরা বলেন, “শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধরে রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ গ্রাম করে দুটি ফল খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত কার্যকর। এতে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, ফলেট, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রনের ঘাটতি পূরণ হয়—যা সর্দি–কাশি প্রতিরোধে যেমন সহায়ক, তেমনি ক্যানসার ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি হ্রাসেও কার্যকর।”
বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
আমড়া
১০০ গ্রাম আমড়ায় প্রায় ৯২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ২৭০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড ও ৫৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখে।
আমলকী
প্রাকৃতিকভাবে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন সি পাওয়া যায় এই ফলে—১০০ গ্রামে প্রায় ৪৩৪ মিলিগ্রাম। নিয়মিত একটি আমলকী খেলে দৈনিক ভিটামিন সি–এর প্রয়োজন মিটে যায় এবং এটি লিভারের কার্যকারিতাও উন্নত করে।
জাম্বুরা
১০০ গ্রামে প্রায় ১০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে, যা কোষের ক্ষয়রোধে কার্যকর। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও কোলেস্টেরল কমাতেও সহায়তা করে।
জলপাই
ভিটামিন সি ও ফাইবারে সমৃদ্ধ (১০০ গ্রামে ৩৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ১.৬ গ্রাম ফাইবার)। এটি হজমে সাহায্য করে এবং ত্বক মসৃণ রাখে।
পেয়ারা
পেয়ারা ভিটামিন সি-এর ভান্ডার—১০০ গ্রামে ২১০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ৫.২ গ্রাম ফাইবার থাকে। এতে থাকা পেকটিন রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
লেবু
১০০ গ্রামে ৪৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি থাকে। এটি শরীরে আয়রন শোষণ বাড়ায়, ফলে রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে।
কদবেল
১০০ গ্রামে প্রায় ১৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি ও ৫৯ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এটি হজম শক্তি বাড়ায় ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক।
পাকা পেঁপে
১০০ গ্রামে প্রায় ২৩৩০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিনয়েড ও ১৩৩ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। এতে থাকা ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টি ও ত্বকের পুষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আনারস
আনারসে থাকা ব্রোমেলিন এনজাইম হজমে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। তবে যাদের কিডনি সমস্যা বা ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
ফল খাওয়ার সঠিক সময় ও পরামর্শ
সকালে বা বিকেলের নাস্তায় ফল খাওয়া সবচেয়ে উপকারী।
খাবারের সঙ্গে একসাথে ফল না খেয়ে খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে খাওয়া উচিত।
ফ্রিজে বেশি দিন না রেখে তাজা ফল খাওয়া শ্রেয়।
রস করে খাওয়ার পরিবর্তে সরাসরি ফল খেলে ফাইবারের পরিমাণ বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌসুমি ফল নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস শরীরের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ত্বক–চুলের সমস্যা প্রতিরোধে প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে।
পুষ্টিবিদরা বলেন, “প্রতিদিন দুটি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে ওষুধ নয়, প্রকৃতিই হয়ে ওঠে আপনার সুস্থতার শ্রেষ্ঠ সহায়ক।”
শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে ওষুধ নয়, বরং প্রকৃতিই সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসক। তাই সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত মৌসুমি ফল খাওয়ার অভ্যাস করুন—আর প্রকৃতির এই উপহারেই খুঁজে পান আপনার সুস্থতার আসল রহস্য।






































