সুপারশপ ‘স্বপ্নে’ ধারাবাহিক প্রতারণা
- সর্বশেষ আপডেট ০৭:৩২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
- / 298
রিটেইল চেইন সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সতর্ক করা হলেও তাদের প্রতারণা থেমে থাকেনি। প্রতিষ্ঠানটির চকচকে প্যাকেজ, মুগ্ধকর অফার, আর স্লোগানে দিনের পর দিন প্রতারিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।
সবশেষ গত সোমবার এই প্রতিষ্ঠানটির প্রতারণার অভিযোগে রংপুরের একটি আউটলেটে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরের রংপুর জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আল মামুন অভিযানে নেতৃত্ব দেন। বলা হয়, অভিযানে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন অনুযায়ি মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া আউটলেটটিতে অফারের নামে নিম্নমানের ও ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য বিক্রি হচ্ছিল। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে সঙ্গে সঙ্গেই জরিমানা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ প্রথম নয়! বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নির্ধারিত মূল্যর অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয়েরও অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রিরও অভিযোগ। এই অভিযোগে গত ২৬ জুলাই বরিশাল নগরীতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবর ভুয়া আমদানিকারক ও বাজারজাতকারীর সিল ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিপণন করার অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মেহেরপুরের গাংনী শাখাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাভা ডিস্ট্রিবিউশন নামের একটি ভুয়া আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানের (এমএন ট্রেডার্স) সিল ব্যবহার করে নিম্নমানের সাবান, চকলেট, বিস্কুট ও বডি স্প্রে বিক্রি করে আসছিলেন।
২০২৩ সালের ৮ এপ্রিল দেশি মুরগির নামে সোনালি জাতের মুরগি বিক্রি এবং সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে চিনি বিক্রি করায় চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী এলাকায় ‘স্বপ্ন’ সুপারশপকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া ২০২২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরার ১১ নং সেক্টরে স্বপ্ন সুপার শপে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার। অভিযানে দেখা যায়, খাবারের মধ্যে মাছি ঘুরছে, ফ্রিজের মধ্যে মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণে রাখা হয়েছে।
অভিযানকালে তাদের গুদামে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ এবং কিছু বিদেশী পণ্যের মোড়কে আমদানীকারকের স্টিকার লাগানো না থাকায় জরিমানা করা হয়। এ সময় বিদেশী পণ্যে এবং আখের রসে কোনো মূল্য তালিকা দৃশ্যমান ছিলো না। এছাড়া ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে গোডাউনের পরিবেশ ছিলো অস্বাস্থ্যকর। এ সকল অপরাধে এই প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
২০১৮ সালের ১৯ জুলাই গাজীপুরে কেমিকেলযুক্ত আম বিক্রির দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ২০১৫ সালের ২০ জুন গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়।
বারবার সতর্ক করার পরেও প্রতিষ্ঠানটিতে একই ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তা অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।
এসব প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মিডিয়া এবং পাবলিক রিলেশনস বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।





































