ঢাকা ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ঈদের ছুটিতে

সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে

মাসুদ রানা, মোংলা (বাগেরহাট)
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
  • / 633

সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে

প্রতি বছর ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ পর্যটন স্পটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় এ বছর বনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন মোংলা বন্দরের পশুর নদীর পাড়ের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও পৌরসভা নির্মিত শিশু পার্কে।

বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারলেও নদী ও উপকূলের সৌন্দর্য দেখতে ছুটে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী ও পর্যটক। ফলে ঈদুল আজহার ছুটিতে শিশু পার্ক ও মোংলার মেরিন ড্রাইভ সড়ক এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত।

এবারের ঈদুল আজহায় টানা ১০ দিনের ছুটি মিলেছে। এ ছুটিতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। কিন্তু বন বিভাগ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভ্রমণপিপাসুরা বিকল্প বিনোদন হিসেবে ভিড় করছেন মোংলা বন্দরের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সড়কে।

মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী ক্যানেলের পাড় ঘেঁষে নির্মিত এই মেরিন ড্রাইভ থেকে দর্শনার্থীরা দূর থেকে সুন্দরবনের দৃশ্য, পশুর চ্যানেলে সারিবদ্ধ কার্গো, কোস্টার ও লাইটার জাহাজ, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি এবং মনোরম সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন। এছাড়াও ভিড় জমছে পৌরসভার নির্মিত শিশু পার্কে।

শুধু স্থানীয় নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন সময় কাটাতে ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখানে এসে সেলফি তুলে অনেকে সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখছেন।

ঘুরতে আসা পর্যটক সিফাতুল ইসলাম ও শিল্পী আক্তার দম্পতি বলেন, “এবার ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু প্রবেশ নিষেধ থাকায় যেতে পারিনি। তাই ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোংলার নদীর পাড়ে মেরিন ড্রাইভে ঘুরতে এসেছি। এখানে নদী, বাতাস, আকাশের মেঘের ভেলা, জাহাজ ও সবুজ প্রকৃতি দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পরে শিশু পার্কেও গিয়েছি, শিশুদের জন্য নানা বিনোদনের আয়োজন রয়েছে সেখানে।”

সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে
সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে

মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, “মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কারণে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। এখানে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণের প্রতিকৃতি এবং নানা ধরনের গাছপালাও রয়েছে। সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভই এখন এখানকার প্রধান বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।”

মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে রয়েছে ল্যাম্পপোস্ট, ফলে রাতে চলাচলেও কোনো অসুবিধা হয় না। এক পাশে নদী, অন্য পাশে কাশবন ও নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। মেরিন ড্রাইভের পাশে রয়েছে মিনি স্টেডিয়াম, নৌবাহিনীর ক্যাম্প এবং ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বসেছে বিভিন্ন খাবার ও শিশুদের খেলনা সামগ্রীর দোকান।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ঈদের ছুটিতে

সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে

সর্বশেষ আপডেট ১২:৫৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

প্রতি বছর ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ পর্যটন স্পটে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যেত। কিন্তু বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন মৌসুম হওয়ায় এ বছর বনে পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ভ্রমণপিপাসুরা ভিড় করছেন মোংলা বন্দরের পশুর নদীর পাড়ের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও পৌরসভা নির্মিত শিশু পার্কে।

বনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে না পারলেও নদী ও উপকূলের সৌন্দর্য দেখতে ছুটে এসেছেন হাজারো দর্শনার্থী ও পর্যটক। ফলে ঈদুল আজহার ছুটিতে শিশু পার্ক ও মোংলার মেরিন ড্রাইভ সড়ক এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত।

এবারের ঈদুল আজহায় টানা ১০ দিনের ছুটি মিলেছে। এ ছুটিতে প্রতি বছর দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে ঘুরতে আসেন। কিন্তু বন বিভাগ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সকল পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভ্রমণপিপাসুরা বিকল্প বিনোদন হিসেবে ভিড় করছেন মোংলা বন্দরের পশুর নদীর তীরে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সড়কে।

মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী ক্যানেলের পাড় ঘেঁষে নির্মিত এই মেরিন ড্রাইভ থেকে দর্শনার্থীরা দূর থেকে সুন্দরবনের দৃশ্য, পশুর চ্যানেলে সারিবদ্ধ কার্গো, কোস্টার ও লাইটার জাহাজ, রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি এবং মনোরম সূর্যাস্ত উপভোগ করছেন। এছাড়াও ভিড় জমছে পৌরসভার নির্মিত শিশু পার্কে।

শুধু স্থানীয় নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন সময় কাটাতে ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে। এখানে এসে সেলফি তুলে অনেকে সময়টিকে স্মরণীয় করে রাখছেন।

ঘুরতে আসা পর্যটক সিফাতুল ইসলাম ও শিল্পী আক্তার দম্পতি বলেন, “এবার ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু প্রবেশ নিষেধ থাকায় যেতে পারিনি। তাই ছেলে-মেয়ে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোংলার নদীর পাড়ে মেরিন ড্রাইভে ঘুরতে এসেছি। এখানে নদী, বাতাস, আকাশের মেঘের ভেলা, জাহাজ ও সবুজ প্রকৃতি দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। পরে শিশু পার্কেও গিয়েছি, শিশুদের জন্য নানা বিনোদনের আয়োজন রয়েছে সেখানে।”

সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে
সুন্দরবনের স্বাদ মোংলা শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভে

মোংলা পোর্ট পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী বলেন, “মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কারণে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। এখানে সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণের প্রতিকৃতি এবং নানা ধরনের গাছপালাও রয়েছে। সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকায় শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভই এখন এখানকার প্রধান বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।”

মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে রয়েছে ল্যাম্পপোস্ট, ফলে রাতে চলাচলেও কোনো অসুবিধা হয় না। এক পাশে নদী, অন্য পাশে কাশবন ও নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। মেরিন ড্রাইভের পাশে রয়েছে মিনি স্টেডিয়াম, নৌবাহিনীর ক্যাম্প এবং ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে বসেছে বিভিন্ন খাবার ও শিশুদের খেলনা সামগ্রীর দোকান।