ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সুদানে তিন দিনে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • / 116

সুদানে তিন দিনে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশার শহরে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি বাহিনীর সদস্য আবুবকর আহমেদ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনীর সহযোগী স্থানীয় প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী “পপুলার রেজিস্ট্যান্স”-এর হয়ে তিনি ৫৫০ দিন ধরে শহর রক্ষায় লড়েছেন। কিন্তু ২৬ অক্টোবর এল-ফাশার পতনের পর সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং শহর থেকে সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি হয়। এতে প্রায় আড়াই লাখ সাধারণ মানুষ আরএসএফের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে।

আহমেদ জানান, আরএসএফ নির্মমভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে এবং তাদের মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখেছে। “তারা কারও প্রতি দয়া দেখায়নি,” বলেন তিনি। পেটে রকেট হামলার শার্পনেলে আহত হয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

তিন দিনে নিহত দেড় হাজার
স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, শহর দখলের পর প্রথম তিন দিনে অন্তত দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে আরএসএফ। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় আল-সৌদ হাসপাতালের ৪৬০ রোগী ও তাদের স্বজনও রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আল জাজিরার নিজস্ব যাচাই ইউনিট সানাদ বেশ কয়েকটি ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে দেখা যায়, আরএসএফ সেনারা মৃতদেহের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা নিরস্ত্র যুবকদের সারিবদ্ধভাবে গুলি করে হত্যা করছে।

এই গণহত্যার পর শহরটি ছেড়ে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছে পাশের তাওইলা ও টাইনের মতো শহরে, যা প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। তবে এখনো বহু মানুষ এল-ফাশারের ভেতরে আটকা পড়ে আছে—কেউ ঘরে লুকিয়ে রয়েছে, কেউ মরুভূমি পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে।

জাতিগত নিধনের অভিযোগ
আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালো বুধবার এক বক্তৃতায় জানান, তিনি সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করবেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা মানুষদের মতে, এটি অ-আরব জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নিধন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

ইয়েল হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব (এইচআরএল) তাদের ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলেছে, পালিয়ে যাওয়া মানুষদেরও গণহারে হত্যা করছে আরএসএফ। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে হত্যার প্রকৃত পরিমাণ পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সুদানে তিন দিনে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশার শহরে ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সরকারি বাহিনীর সদস্য আবুবকর আহমেদ আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করেছে।

তিনি বলেন, দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে সেনাবাহিনীর সহযোগী স্থানীয় প্রতিরক্ষা গোষ্ঠী “পপুলার রেজিস্ট্যান্স”-এর হয়ে তিনি ৫৫০ দিন ধরে শহর রক্ষায় লড়েছেন। কিন্তু ২৬ অক্টোবর এল-ফাশার পতনের পর সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং শহর থেকে সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার চুক্তি হয়। এতে প্রায় আড়াই লাখ সাধারণ মানুষ আরএসএফের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে।

আহমেদ জানান, আরএসএফ নির্মমভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করেছে এবং তাদের মরদেহ রাস্তায় ফেলে রেখেছে। “তারা কারও প্রতি দয়া দেখায়নি,” বলেন তিনি। পেটে রকেট হামলার শার্পনেলে আহত হয়ে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।

তিন দিনে নিহত দেড় হাজার
স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, শহর দখলের পর প্রথম তিন দিনে অন্তত দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করেছে আরএসএফ। নিহতদের মধ্যে স্থানীয় আল-সৌদ হাসপাতালের ৪৬০ রোগী ও তাদের স্বজনও রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আল জাজিরার নিজস্ব যাচাই ইউনিট সানাদ বেশ কয়েকটি ভিডিও যাচাই করেছে, যেখানে দেখা যায়, আরএসএফ সেনারা মৃতদেহের স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা নিরস্ত্র যুবকদের সারিবদ্ধভাবে গুলি করে হত্যা করছে।

এই গণহত্যার পর শহরটি ছেড়ে ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ পালিয়ে গেছে। অনেকে আশ্রয় নিয়েছে পাশের তাওইলা ও টাইনের মতো শহরে, যা প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে। তবে এখনো বহু মানুষ এল-ফাশারের ভেতরে আটকা পড়ে আছে—কেউ ঘরে লুকিয়ে রয়েছে, কেউ মরুভূমি পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছে।

জাতিগত নিধনের অভিযোগ
আরএসএফ নেতা মোহাম্মদ হামদান হেমেদতি দাগালো বুধবার এক বক্তৃতায় জানান, তিনি সহিংসতার অভিযোগ তদন্ত করবেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ও বেঁচে ফেরা মানুষদের মতে, এটি অ-আরব জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নিধন করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

ইয়েল হিউম্যানিটারিয়ান রিসার্চ ল্যাব (এইচআরএল) তাদের ২৮ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলেছে, পালিয়ে যাওয়া মানুষদেরও গণহারে হত্যা করছে আরএসএফ। তবে স্যাটেলাইট ছবিতে হত্যার প্রকৃত পরিমাণ পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব নয়।