সামিরা আমার খুব ঘনিষ্ঠ ছিল: শাবনূর
- সর্বশেষ আপডেট ১১:২০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
- / 96
১৯৯৩ সালে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর পর কিছুটা সময় নিয়ে সংসার ও ব্যক্তিগত জীবনে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করলেও, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় তার নাম একসময় আলোচনায় আসে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবন, ক্যারিয়ার, সালমান শাহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
সালমান শাহ নিয়ে
শাবনূর বলেন, “সালমান শাহ আর আমাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। কিন্তু আমি কখনো বুঝিনি, কেন তার মৃত্যুর সঙ্গে আমার নাম জড়ানো হলো। সালমানের কোনো বোন ছিল না, তাই আমাকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন। ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। তার মা-বাবাও আমাকে নিজের মেয়ের মতোই ভালোবাসতেন। আমাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ছিল, কিন্তু এর বাইরে কিছু নয়।”
তিনি জানান, “সালমান নাচে একটু দুর্বল ছিলেন। প্রায়ই বলতেন, ‘আমাকে একটু নাচ দেখিয়ে দে তো।’ আমি হাসতে হাসতে দেখিয়ে দিতাম। আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অনেকে অযথা গল্প বানিয়েছে, যা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে সামিরা ছিল খুব ঘনিষ্ঠ। ও-ই আমাকে নিজের হাতে চুড়ি পরিয়ে দিয়েছে, পোশাক বেছে দিয়েছে, কানের দুল মিলিয়ে দিয়েছে— আমরা একসঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছি।”
আবার বড়পর্দায় ফেরা
দীর্ঘ বিরতির পর শাবনূর ফিরছেন চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত “মাতাল হাওয়া” চলচ্চিত্রে। এতে তার সহশিল্পী মাহফুজ আহমেদ। এর আগে তারা একসঙ্গে শহীদুল ইসলাম খোকনের “বাংলা” ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।
শাবনূর বলেন, “শিল্পীদের পেশায় আসলে ‘ব্যাক’ করার কিছু নেই। আমরা ভালো গল্পের অপেক্ষায় থাকি। গল্প যদি ভালো লাগে, তখনই কাজে ফিরি। ইতোমধ্যে রঙ্গনা নামে একটি ছবির কাজ শুরু করেছি, সেটিও শেষ করার অপেক্ষায়।”
শিল্পীদের বয়স নয়, কাজই আসল
তার ভাষায়, “শিল্পীদের বয়স বলে কিছু নেই। যত বছরই হোক, চরিত্র ভালো লাগলেই অভিনয়ে ফিরব। শিল্পীরা সব সময় কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকে। আমাদের জীবনটাই এমন— আমৃত্যু কাজের মধ্যে ডুবে থাকা।”
আবারও চলচ্চিত্রে ডুবে যাওয়ার পরিকল্পনা
তিনি জানান, “অনেক নির্মাতা আমার কাছে গল্প নিয়ে আসছেন। প্রতিটা গল্পই মন ছুঁয়ে যায়। তাই ভাবছি, আবারও অভিনয়ে ডুবে যাব।”
চলচ্চিত্র নির্মাণ নিয়েও ভাবনা
শাবনূর বলেন, “আগে চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু তখন শিল্পের অবস্থা খুব ভালো ছিল না। এখন মনে হচ্ছে সময়টা অনুকূল। তাই এবার হয়তো নির্মাণে নামব, তবে ভালো কিছু করার জন্য একটু সময় নেব।”
ছেলেকে নিয়ে আবেগ
একমাত্র পুত্র আইজেন সম্পর্কে শাবনূর বলেন, “ও খুব অভিমানী আর বুদ্ধিমান। ইংরেজি-বাংলা মিশিয়ে আধো আধো কথা বলে, যা শুনে আমার মন ভরে যায়। ও এখনই আমাকে যত্ন করে, যেন আমি না, বরং ও-ই আমার গার্ডিয়ান। ওকে নিয়েই আমি সবচেয়ে সুখী।”
নিজের জীবন নিয়ে ভাবনা
নিজের জীবনের গল্প প্রসঙ্গে শাবনূর বলেন, “আমার জীবনের পথটা একটু আলাদা। ছোটবেলায় অন্য মেয়েরা যেমন খেলাধুলা করত, ঘুরে বেড়াত, আমি তা পারিনি। যখন বুঝবার বয়স হলো, তখনই সিনেমায় এসেছি। তাই এখনো ছোটবেলার দিনগুলো খুব মিস করি।”
তিনি আরও বলেন, “গতবার দেশে এসে বোরকা পরে রিকশায় করে বাজারে গিয়েছিলাম, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খেয়েছি। কেউ চিনতে পারেনি। আরেকদিন বান্ধবীকে নিয়ে শ্যামলী বাসে চড়ে ঘুরে বেড়ালাম। মনে হচ্ছিল আবার শৈশবে ফিরে গেছি।”
সালমান শাহর মৃত্যুসংবাদ
স্মৃতিচারণা করে শাবনূর বলেন, “একদিন হঠাৎ কেউ জানাল, সালমান মারা গেছে। প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি, ভেবেছিলাম কেউ মজা করছে। পরে নিশ্চিত হয়ে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। এরপর এফডিসিতে গিয়ে তাকে শেষবারের মতো দেখি।”
চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের নায়িকা শাবনূর আবারও দর্শকের পর্দায় ফিরতে প্রস্তুত। তার কথায়, “ভালো গল্প পেলেই কাজ শুরু করব। শিল্পী হিসেবে আমার যাত্রা এখনো শেষ হয়নি।”
































