ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১২:০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 102

নেপালে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। ছবি: এএফপি

দেশজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে নেপাল সরকার। সরকারের এক মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।

 

মন্ত্রিসভার মুখপাত্র এবং যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুঙ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে জানান, গত সপ্তাহে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছি। এখন এগুলো সচল আছে।”

 

এর আগে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিঙ্কডইন ও ইউটিউবসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ভুয়া তথ্য, প্রতারণা ও ঘৃণামূলক বক্তব্য ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বড় শহরগুলোতে নেমে আসে হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী। ‌‘জেন জি আন্দোলন’ নামে পরিচিত এই বিক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুনর্বহালের পাশাপাশি দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, পানির কামান, লাঠিচার্জ এমনকি সরাসরি গুলি চালায়। এতে শুধু কাঠমান্ডুতেই ১৭ জন নিহত হন। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইটাহারিতে মারা যান আরও দুজন। দেশজুড়ে আহত হন শতাধিক মানুষ।

 

স্থানীয় সূত্র বলছে, আহতের সংখ্যা প্রায় ৪০০, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। গত কয়েক দশকে নেপালে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শমদাসানি বলেন, “আমরা নেপালে বিক্ষোভকারীদের হতাহত ঘটনায় স্তম্ভিত। অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। আমরা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

সরকার ইতোমধ্যেই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ প্যানেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

সামাজিক মাধ্যম নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো নেপাল

সর্বশেষ আপডেট ১২:০৮:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ-সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে নেপাল সরকার। সরকারের এক মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।

 

মন্ত্রিসভার মুখপাত্র এবং যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুঙ মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে জানান, গত সপ্তাহে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছি। এখন এগুলো সচল আছে।”

 

এর আগে হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, লিঙ্কডইন ও ইউটিউবসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ভুয়া তথ্য, প্রতারণা ও ঘৃণামূলক বক্তব্য ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

 

তবে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে সোমবার রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বড় শহরগুলোতে নেমে আসে হাজার হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী। ‌‘জেন জি আন্দোলন’ নামে পরিচিত এই বিক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুনর্বহালের পাশাপাশি দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

 

কাঠমান্ডুতে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, রাবার বুলেট, পানির কামান, লাঠিচার্জ এমনকি সরাসরি গুলি চালায়। এতে শুধু কাঠমান্ডুতেই ১৭ জন নিহত হন। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ইটাহারিতে মারা যান আরও দুজন। দেশজুড়ে আহত হন শতাধিক মানুষ।

 

স্থানীয় সূত্র বলছে, আহতের সংখ্যা প্রায় ৪০০, যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। গত কয়েক দশকে নেপালে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ বিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কার্যালয় এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মুখপাত্র রাভিনা শমদাসানি বলেন, “আমরা নেপালে বিক্ষোভকারীদের হতাহত ঘটনায় স্তম্ভিত। অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, নিরাপত্তা বাহিনী অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। আমরা দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি।”

 

সরকার ইতোমধ্যেই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ প্যানেল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে এবং নিহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিয়েছে।