সরকারের চেয়ে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ বেশি প্রভাবশালী: ইফতেখারুজ্জামান
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩১:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 21
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের তুলনায় আমলাতন্ত্রের একটি প্রভাবশালী অংশই বাস্তবে বেশি ক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোন কাগজে স্বাক্ষর হবে এবং কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা উপদেষ্টা পরিষদ নয়, বরং আমলাতন্ত্রের ভেতরের ক্ষমতাবান একটি অংশ নির্ধারণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত টিআইবির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত অধিকাংশ অধ্যাদেশেই প্রতিরোধক মহল, বিশেষ করে প্রভাবশালী আমলাতন্ত্রের চাপের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে, ফলে সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়েছে।
সরকার কেন এভাবে নতি স্বীকার করছে জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এর সুনির্দিষ্ট কারণ না জানলেও অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, কোন সিদ্ধান্তে কী থাকবে বা থাকবে না তা আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী অংশই ঠিক করে এবং সেখানে গোষ্ঠীস্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থও কাজ করে।
তিনি বলেন, হাতে গোনা কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করেই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং কোথাও কোথাও খসড়া অধ্যাদেশ অল্প সময়ের জন্য ওয়েবসাইটে দিয়ে দায়সারা দায়িত্ব পালন করা হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অংশীজনরা নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ পেলেও তাদের প্রতিশ্রুত সংশোধন ব্যাখ্যা ছাড়াই উপেক্ষিত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারও চালানো হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, সাইবার নিরাপত্তা ও উপাত্ত সুরক্ষা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোতে জাতীয় স্বার্থের চেয়ে আমলাতন্ত্র ও ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্ব বজায় রাখার প্রবণতা স্পষ্ট।
তিনি বলেন, সামগ্রিকভাবে আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকার প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের নজির স্থাপন করতে পারেনি।

































