ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

শেখ হাসিনা প্রশ্নে ভারতের অবস্থান বদলাচ্ছে না

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৫২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
  • / 410

ভারত-শেখ হাসিনা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন—এমন একটি অডিও ফাঁস এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হওয়ার পরও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থানে এখনও কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দিল্লির কূটনৈতিক ও সরকারি মহলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও ভারত তাতে সাড়া দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার পেছনে ভারতের যে কৌশলগত ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, তাতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি বলেই দাবি করছেন তারা। এমনকি বাংলাদেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে চার্জ গঠন হলেও ভারতের অবস্থানে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

অডিও ফাঁস, চার্জশিট—তবু ভারতের নিশ্চুপতা
গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা—এমন একটি অডিও সম্প্রতি বিবিসি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের কথাও জানা গেছে, যেখানে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দুই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করলেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও আসেনি।

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অবশ্য একটি ফেসবুক পোস্টে বিবিসির প্রতিবেদনকে “অপসাংবাদিকতার নির্লজ্জ নজির” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “রাষ্ট্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ বিবিসির তদন্তেই মিলেছে।”

রাজনৈতিক অবস্থান অপরিবর্তিত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য না এলেও সূত্রগুলো বলছে, ভারতের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার—শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তাদের কৌশলগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে এবং সেই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন তারা বোধ করছে না।

একজন ভারতীয় কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, “যদি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় কেউ গোপনে তার অডিও রেকর্ড করে ফাঁস করে দেয়, সেটি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে না। ওই অডিওর ভিত্তিতে ভারতের আশ্রয়নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে ট্রাইব্যুনাল চলছে, সেটি আদৌ কতটা নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও ভারতের সন্দেহ রয়েছে।”

প্রত্যর্পণের অনুরোধ ও ভারতের নীরবতা
গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি নোট ভার্বাল পাঠিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারত সেই অনুরোধের প্রাপ্তি স্বীকার করলেও এরপর সাত মাস পার হয়ে গেলেও দিল্লি সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ বিষয়ে ভারত সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমাদের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও কোনো দেশ যদি মনে করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত পাঠালে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন, তাহলে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের অধিকারও তাদের রয়েছে।”

তিনি আরও যুক্তি দেন, “বাংলাদেশে যেভাবে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা করা হচ্ছে, আইনজীবীদের আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেক নেতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়েছে—এসবই বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

রাজনৈতিক বন্ধুত্বের হিসাব
ভারতের একাধিক সাবেক কূটনীতিক মনে করছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না করার মূল কারণ কেবল আইনি নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক।

তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে শেখ হাসিনা ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২5 সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতমুখী কূটনীতির প্রধান প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এক সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, “যদি ভারত এখন শেখ হাসিনাকে ফেলে দেয় বা তাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়, তবে তা হবে ভারতের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার বড় ধস। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবেশী দেশ ভারতকে আর বিশ্বাস করবে না।”

এই কারণেই চার্জশিট হোক বা অডিও ফাঁস হোক, ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করবে না—এটি কার্যত তাদের অনানুষ্ঠানিক নীতিই।

‘শেখ হাসিনা যা বলার, বলবেন নিজেই’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “আমরা শেখ হাসিনার মুখপাত্র নই। তিনি যা বলেন, সেটার দায়ভার ভারত নেবে না।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতের কোনো রাজনৈতিক বন্দি নন। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত। সে কারণে তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভারত বাধা দিচ্ছে না। তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।”

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে একাধিকবার শেখ হাসিনার ভাষণ সীমিত করার অনুরোধ জানানো হলেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানা যায়।

চলতি বছরের জুনে লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সভায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, মোদি তাকে বলেছেন, “এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কারও মুখ বন্ধ করে রাখা যায় না।”

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধেও ভারত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

অন্যদিকে ভারত সরকার মনে করে, বাংলাদেশে বর্তমানে চলমান বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় উপভোগ করছেন, এবং সেই অবস্থান থেকে তার মতপ্রকাশেও কোনো বাধা নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শেখ হাসিনার প্রশ্নে ভারতের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত এবং দৃঢ়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

শেখ হাসিনা প্রশ্নে ভারতের অবস্থান বদলাচ্ছে না

সর্বশেষ আপডেট ১০:৫২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন—এমন একটি অডিও ফাঁস এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হওয়ার পরও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থানে এখনও কোনো পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

দিল্লির কূটনৈতিক ও সরকারি মহলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও ভারত তাতে সাড়া দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনাকে বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার পেছনে ভারতের যে কৌশলগত ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, তাতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন ঘটেনি বলেই দাবি করছেন তারা। এমনকি বাংলাদেশের আদালতে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে চার্জ গঠন হলেও ভারতের অবস্থানে তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

অডিও ফাঁস, চার্জশিট—তবু ভারতের নিশ্চুপতা
গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা—এমন একটি অডিও সম্প্রতি বিবিসি একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে।

এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের কথাও জানা গেছে, যেখানে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মামুনকে রাজসাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দুই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করলেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও আসেনি।

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অবশ্য একটি ফেসবুক পোস্টে বিবিসির প্রতিবেদনকে “অপসাংবাদিকতার নির্লজ্জ নজির” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “রাষ্ট্রীয় অনুমোদনপ্রাপ্ত হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার প্রমাণ বিবিসির তদন্তেই মিলেছে।”

রাজনৈতিক অবস্থান অপরিবর্তিত
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়গুলো নিয়ে কোনো বক্তব্য না এলেও সূত্রগুলো বলছে, ভারতের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার—শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তাদের কৌশলগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে এবং সেই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন তারা বোধ করছে না।

একজন ভারতীয় কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, “যদি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় কেউ গোপনে তার অডিও রেকর্ড করে ফাঁস করে দেয়, সেটি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাবে না। ওই অডিওর ভিত্তিতে ভারতের আশ্রয়নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসার প্রশ্নই ওঠে না।”

তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে ট্রাইব্যুনাল চলছে, সেটি আদৌ কতটা নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়েও ভারতের সন্দেহ রয়েছে।”

প্রত্যর্পণের অনুরোধ ও ভারতের নীরবতা
গত বছরের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে একটি নোট ভার্বাল পাঠিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হয়েছিল। ভারত সেই অনুরোধের প্রাপ্তি স্বীকার করলেও এরপর সাত মাস পার হয়ে গেলেও দিল্লি সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এ বিষয়ে ভারত সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “আমাদের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও কোনো দেশ যদি মনে করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ফেরত পাঠালে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন, তাহলে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের অধিকারও তাদের রয়েছে।”

তিনি আরও যুক্তি দেন, “বাংলাদেশে যেভাবে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মামলা করা হচ্ছে, আইনজীবীদের আদালতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি অনেক নেতাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়েছে—এসবই বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।”

রাজনৈতিক বন্ধুত্বের হিসাব
ভারতের একাধিক সাবেক কূটনীতিক মনে করছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না করার মূল কারণ কেবল আইনি নয়, বরং গভীর রাজনৈতিক।

তাদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে শেখ হাসিনা ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক মিত্র। তিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০২5 সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতমুখী কূটনীতির প্রধান প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এক সাবেক ভারতীয় হাই কমিশনার বলেন, “যদি ভারত এখন শেখ হাসিনাকে ফেলে দেয় বা তাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়, তবে তা হবে ভারতের কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার বড় ধস। ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবেশী দেশ ভারতকে আর বিশ্বাস করবে না।”

এই কারণেই চার্জশিট হোক বা অডিও ফাঁস হোক, ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করবে না—এটি কার্যত তাদের অনানুষ্ঠানিক নীতিই।

‘শেখ হাসিনা যা বলার, বলবেন নিজেই’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “আমরা শেখ হাসিনার মুখপাত্র নই। তিনি যা বলেন, সেটার দায়ভার ভারত নেবে না।”

তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ভারতের কোনো রাজনৈতিক বন্দি নন। তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্ত। সে কারণে তাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভারত বাধা দিচ্ছে না। তার মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে।”

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ভারতকে একাধিকবার শেখ হাসিনার ভাষণ সীমিত করার অনুরোধ জানানো হলেও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমন অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছেন বলে জানা যায়।

চলতি বছরের জুনে লন্ডনে একটি আন্তর্জাতিক সভায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জানান, মোদি তাকে বলেছেন, “এই সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কারও মুখ বন্ধ করে রাখা যায় না।”

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যর্পণ অনুরোধেও ভারত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।

অন্যদিকে ভারত সরকার মনে করে, বাংলাদেশে বর্তমানে চলমান বিচার প্রক্রিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো ভারতের রাজনৈতিক আশ্রয় উপভোগ করছেন, এবং সেই অবস্থান থেকে তার মতপ্রকাশেও কোনো বাধা নেই।

সব মিলিয়ে বলা যায়, শেখ হাসিনার প্রশ্নে ভারতের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত এবং দৃঢ়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা