শিল্পকলায় জবি নাট্যকলার ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলম্স’ মঞ্চে আসছে
- সর্বশেষ আপডেট ১১:৪৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫
- / 162
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে সাহিত্যে নোবেলজয়ী মার্কিন নাট্যকার ইউজিন ও’নীলের বিশ্বখ্যাত নাটক ‘ডিজায়ার আন্ডার দ্য এলম্স’। নাটকটি মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (২৫ অক্টোবর) ও আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে নাটকটির দুইদিনব্যাপী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। টিকিটের বিনিময়ে দর্শকরা প্রযোজনাটি উপভোগ করতে পারবেন। নাটকটির বাংলা অনুবাদ করেছেন প্রখ্যাত অনুবাদক কবীর চৌধুরী। পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন জবি নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা।
নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘এফরায়েম ক্যাবট’ এর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন শিক্ষার্থী তকরিম আহমেদ। তিনি বলেন,
“এফরায়েম ক্যাবট আমার কাছে কেবল একটি চরিত্র নয়, এক প্রজন্মের প্রতীক। তার জমিই তার জীবন, অথচ সেই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তার কবর হয়। বাইরে দৃঢ় অথচ ভেতরে অসহায়—এই দ্বন্দ্বই চরিত্রটির গভীরতা। আশা করি দর্শকরা নাটকটির এই মানবিক বেদনা অনুভব করবেন।”
‘অ্যাবেন’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনন মোস্তাকিন। তার ভাষ্য, “অ্যাবেন এমন এক তরুণ, যে ছোটবেলা থেকে মায়ের ভালোবাসা পায়নি। বাবার প্রতি তার ক্ষোভ আর ভালোবাসা একসঙ্গে কাজ করে। সেই মানসিক দ্বন্দ্ব মঞ্চে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছি।”
‘অ্যাবি’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন রোকসানা আক্তার সায়মা। তিনি বলেন, “অ্যাবি ভালোবাসা পেতে চায়, কিন্তু সমাজ তাকে সেই সুযোগ দেয় না। তার মধ্যে দোষ, ভয় আর মায়া একসাথে কাজ করে। অভিনয়ের সময় আমি চেয়েছি দর্শক যেন তার এই জটিল মানসিক অবস্থাটা বুঝতে পারে।”
নির্দেশক রুবাইয়া জাবীন প্রিয়তা বলেন, “ইউজিন ও’নীলের এই নাটক কেবল একটি পারিবারিক দ্বন্দ্বের গল্প নয়, বরং মানুষের গভীরতম আকাঙ্ক্ষা, অপরাধবোধ ও মুক্তির অনুসন্ধানের প্রতিফলন। এখানে প্রতিটি চরিত্র ভালোবাসা খোঁজে, কিন্তু সেই ভালোবাসা জড়িয়ে থাকে ঈর্ষা ও অধিকারবোধের সঙ্গে। সেই জটিল মিশ্রণই ‘ডিজায়ার’—অর্থাৎ ইচ্ছা—মানবমনের গভীরে গেঁথে দেয়।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই প্রযোজনার মাধ্যমে আমরা একটি প্রশ্ন তুলতে চেয়েছি—মানুষ কি কখনও নিজের ইচ্ছার ঊর্ধ্বে উঠতে পারে, নাকি সেই ইচ্ছাই শেষ পর্যন্ত তাকে তার নিজের তৈরি কারাগারে বন্দি করে ফেলে? দর্শক যদি আমাদের সঙ্গে সামান্য সময়ের জন্যও সেই যাত্রায় অংশ নেন, সেটাই আমাদের বড় অর্জন।”
নাটকটিতে অভিনয় করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থী তকরিম, মনন, সায়মা, শোভন, খুশি, মিঠুন, জ্যা চাকমা, অর্থি, পলক, রিভা, ইসরাত, সুরুজ ও তুলি। আবহসঙ্গীতে ছিলেন নওমী, শোভন, পলক ও সুরুজ।
মঞ্চ নির্মাণে ছিলেন স্পর্শ ও টনি, আলো প্রক্ষেপণে খন্দকার রাকিবুল হক ও রাজিন।
পোস্টার ডিজাইন করেছেন সাদিয়া নিশা, প্রকাশনায় ছিলেন মুগ্ধ আনন।
দুই দিনব্যাপী এই প্রযোজনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যাঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। দর্শকরা আশা করছেন, এটি একটি নান্দনিক ও ভাবনাসমৃদ্ধ নাট্য অভিজ্ঞতা উপহার দেবে জবি নাট্যকলা বিভাগের পক্ষ থেকে।




































