লিওনেল মেসি: এক অমর রূপকথার জাদুকর
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:২৮:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
- / 784
শুরুটা হয়েছিল একটা স্যুটকেস থেকে, কিংবা একটা ন্যাপকিন পেপার অথবা ছোট্ট এক বাইসাইকেল থেকে। তখন সেগুলো ছিল কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু মুহূর্ত, কিছু অনুল্লেখ্য দৃশ্যপট। কিন্তু সময়ের স্রোতে সেই সব ক্ষুদ্র ঘটনা গেঁথে গেল এক অনবদ্য রূপকথায়, যার কেন্দ্রে একজন মানুষ—লিওনেল মেসি।
আজ তাঁর ৩৮তম জন্মদিন। হয়তো মেসি ফিরে তাকান, হয়তো না। কিন্তু আমাদের তো ফিরে তাকাতেই হয়। সেই গল্পটার দিকে, যেখানে কাঁটা বিছানো পথ পেরিয়ে মুকুট ছিনিয়ে এনেছেন এক জাদুকর। এমন মানবজনম আর কি হবে!
মেসি শুধু ফুটবলার নন, এক অলৌকিক অভিজ্ঞান। কারও কাছে তিনি এক পবিত্রতা, কারও কাছে নস্টালজিয়া। তাঁর গল্পটা হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং চিরস্থায়ী হয়ে ওঠার। ২০২২ সালের সেই ডিসেম্বর রাতে, কাতারে পাওয়া বিশ্বকাপ ট্রফি যেন ফুটবলীয় স্বর্গের দরজা খুলে দিয়েছিল। কিন্তু অমরত্বের পরে কী থাকে? মেসির ভাষায়, ‘আর চাওয়ার কিছু নেই।’ সেই জাহাজগুলোর মতোই এখন তিনি ধীরে বয়ে চলেছেন—নির্বিকার, নির্ভার।
কিন্তু আমাদের চাওয়ার কি শেষ আছে? আমরা তো চাই, মেসি অনন্তকাল খেলুক। কারণ তাঁর পায়ের ছোঁয়ায় ক্লিশে জীবনটা কিছু সময়ের জন্য জ্যোতির্ময় হয়ে ওঠে।
৩৮ বছর আগে শুরু হওয়া এই মহাকাব্য এখন শেষের দিকে। নাট্যমঞ্চে গোধূলির আলো পড়ছে। অতিরিক্ত সময়েরও একটা সীমা আছে। মেসি নিজেও হয়তো সেটা বুঝে গেছেন। তাই হয়তো ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেই বাজাবেন শেষ বিউগল।
হারনান কাসসিয়ারি বলেছিলেন মেসির স্যুটকেসের কথা—যেটা আলমারিতে নয়, বাইরে রাখা হয়, শিকড়ের টানে। বাইসাইকেলের সেই পুরোনো স্মৃতিগুলো, ন্যাপকিনে লেখা চুক্তিপত্র, টয়লেটের জানালা ভেঙে মাঠে নামা—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক রূপকথা, যেটার শেষে লেখা নেই।
আর ঠিক তাই, মেসির জন্মদিন মানে শুধু একটি ব্যক্তির জীবনের আরেকটি বছর নয়। এটি একটি চলমান কিংবদন্তির উদ্যাপন। সেই কিংবদন্তি, যেটি আমাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে চিরস্থায়ীভাবে। সেই মেসি, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভালোবাসা নামের সবচেয়ে দুর্লভ বস্তুটার প্রতিনিধিত্ব করে যাবেন।





































