রোহিঙ্গা ঢলের আট বর্ষপূর্তি
- সর্বশেষ আপডেট ০৫:৫৯:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৫
- / 81
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নির্যাতন ও গণহত্যার শিকার হয়ে দেশ ছাড়ার আট বছর পূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা পালন করছে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস’। এ উপলক্ষে দিনটিকে রোহিঙ্গারা ‘কালো দিবস’ আখ্যা দিয়ে সোমবার সকালে আয়োজিত সমাবেশে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার দাবি ও পূর্ণ নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনসহ নানা দাবি তুলেন টেকনাফের লেদা ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা।
তারা মিয়ানমারে ফেরার দাবিতে কক্সবাজারের ১০টি ক্যাম্পে আলাদাভাবে সমাবেশ করেছেন। এসব ক্যাম্পে শিশুসহ প্রায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা অংশ নেন। তারা সমাবেশ থেকে স্বদেশে ফেরার আকুতি জানান।
সকাল ৭টায় টেকনাফের লেদা-জাদিমুরাসহ বিভিন্ন ক্যাম্পে আমগাছ নামক মাঠে স্লোগান, ব্যানার-পোস্টার নিয়ে সমাবেশে জড়ো হন রোহিঙ্গারা। শুরুতে মৌলভি রোহিঙ্গা রহমত উল্লাহ নিজস্ব ভাষার তারানা (গান) গেয়ে মিয়ানমারের নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন এবং দ্রুত স্বদেশে ফিরে যেতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতা মো. ইলিয়াস বলেন, “২৫ আগস্ট খুশির নয়, রোহিঙ্গাদের অশান্তির দিন। ২০১৭ সালের এই দিনে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা চালিয়েছিল সেদেশের সরকার। শুধু তাই নয়, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে দেশ ছাড়া করে। আমরা সেই জেনোসাইডের বিচার চাই।”
১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রোহিঙ্গা যুবক সৈয়দুর আমিন বলেন, “আমরা এ দেশের অতিথি। তবে সময় অনেক কেটে গেছে, আর নয়। আমাদের এখনই জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া উচিত। ঐক্যবদ্ধ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। মিয়ানমারে না গিয়ে অন্য দেশে গেলে রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব থাকবে না। তাই আমরা নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই, বিশ্ববাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সমাবেশে টেকনাফ লেদা রোহিঙ্গা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, “মিয়ানমারের জান্তারা রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। আমরা আরাকানে নিজ ভিটায় ফিরতে চাই।”
অন্যদিকে উখিয়া ক্যাম্পে সমাবেশে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, “আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ দেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশে শরণার্থী জীবনের আট বছর কেটেছে, এ ভাসমান জীবন থেকে মুক্তি চাই। নিজ দেশে একটি সেফ জোনে নিরাপদে ফিরে যেতে চাই।”

সমাবেশে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এপিবিএন পুলিশ টহল জোরদার করে। এ বিষয়ে ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, “সকালে আমাদের ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা গণহত্যা দিবস উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষ করেছে। আমাদের অধীনে কয়েকটি ক্যাম্পে হাজারো রোহিঙ্গা অংশ নিয়েছে। তারা শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি চেয়ে নাগরিকত্বসহ সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন।”
অন্যদিকে একই দিন সকালে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে সকাল ১০টায় কক্সবাজার পৌঁছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। উখিয়ার ইনানীর হোটেল বেওয়াচে রোববার শুরু হয় তিন দিনের সম্মেলন “টেক অ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন”। এ সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রোহিঙ্গা ইস্যুবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভের দপ্তর।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও রাসেদং জেলায় রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হত্যা ও নির্যাতন শুরু করে। সে সময় বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঢল নামে।
































