রাশিয়ার কর্মকাণ্ডকে ‘জঘন্য’ বললেন ট্রাম্প
- সর্বশেষ আপডেট ১১:০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ অগাস্ট ২০২৫
- / 103
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বৃহস্পতিবার রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘জঘন্য’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, “রাশিয়া যা করছে, তা খুবই ঘৃণ্য। আমরা কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছি।” মস্কোকে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধ বন্ধের আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় আরও কঠিন অর্থনৈতিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সিএনএন জানায়, বৃহস্পতিবারের হামলায় এখন পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু রয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর বয়স মাত্র দুই বছর। রুশ হামলায় কিয়েভের একটি নয়তলা আবাসিক ভবনের একপাশ ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে। এদিনের হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫৯ জন। চলতি বছর কিয়েভে রাশিয়ার চালানো এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। তবে জুলাইজুড়েই এমন হামলার ঢেউ আছড়ে পড়েছে ইউক্রেনে। কিয়েভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে ৩,৮০০-এর বেশি ড্রোন এবং ২৬০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার মধ্যে ১২৮টি ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র।
ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও ইতালির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় ইউক্রেন জানিয়েছে, এই হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ আসতে পারে।
আলজাজিরা জানায়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, “এই নৃশংস হামলা আবারও প্রমাণ করেছে, রাশিয়ার ওপর আরও চাপ ও নিষেধাজ্ঞা দরকার। মস্কোর যুদ্ধক্ষমতা যেসব জিনিসের ওপর নির্ভর করে, সেগুলো সব নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে হবে।”
জেলেনস্কি আরও বলেন, “রাশিয়ায় সরকার পরিবর্তন না হলে, যদি এই যুদ্ধ শেষও হয়; তারা আশপাশের দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।”
এ অবস্থায় ইউক্রেনকে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জার্মানি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তারা ইউক্রেনে দুটি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠাবে বলে জানিয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও কিছু সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো মিলে ইউক্রেনের জন্য একটি নিরাপত্তা চুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কির উপদেষ্টা আন্দ্রে ইয়ারমাক। রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলাকে ‘পাশবিক’ বলে আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনা থমকে যাওয়ার পর আকাশপথে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে রাশিয়ায় পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি একটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হলেও রাশিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখাই ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
































