ঢাকা ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন

সিনিয়র প্রতিবেদক, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫
  • / 284

রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পান্থশালা থেকে সায়দাবাদ পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এলাকা পরিদর্শন করেছে চীনা সরকারের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার সকালে চীনের  ইঞ্জিনিয়ার মি. জিয়া সাই ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মি. ইউ জিকুইং-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি নদীসংলগ্ন স্থানসমূহ পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলটি ট্রলারে করে পান্থশালা থেকে মেঘনা নদী পাড় হয়ে সায়দাবাদ ঘাটে পৌঁছায় এবং সেতু নির্মাণ সম্ভাব্য এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা ও যাতায়াত ব্যবস্থা ঘুরে দেখে। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি ব্রিজ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইবাদুর রহমান, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সজিব সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও সাংবাদিকরা।

প্রতিনিধি দলের এই সফরটি বাস্তবায়ন হয়েছে রায়পুরার কৃতি সন্তান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের সমন্বিত প্রচেষ্টায়-এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ মেঘনা নদীর ওপারে যাতায়াতের জন্য নৌপথ নির্ভর। ঝুঁকিপূর্ণ এই যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বরং কৃষি, ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে।

রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন
রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন

সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া বলেন, “পান্থশালা ও সায়দাবাদ ঘাটে এখন হাজারো মানুষের চলাচল। ব্রিজ হলে এই দুই স্থান হবে বানিজ্যিক কেন্দ্র।” জেলা বিএনপির নেতা মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন বলেন, “এই ব্রিজের অগ্রগতি দেখে আমরা আশান্বিত। সকলের প্রচেষ্টায় কাজটি বাস্তবায়ন হোক।”

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু হলে বদলে যাবে এই উপজেলার আর্থসামাজিক চিত্র।”
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জিয়াউর রহমান বলেন, “ব্রিজ না থাকায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়তে হয়। সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।”

সবার প্রত্যাশা, মেঘনার উপর এই সেতু নির্মাণ হলে রায়পুরার যোগাযোগ, জীবনমান ও অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পান্থশালা থেকে সায়দাবাদ পর্যন্ত মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে এলাকা পরিদর্শন করেছে চীনা সরকারের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার সকালে চীনের  ইঞ্জিনিয়ার মি. জিয়া সাই ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার মি. ইউ জিকুইং-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি নদীসংলগ্ন স্থানসমূহ পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলটি ট্রলারে করে পান্থশালা থেকে মেঘনা নদী পাড় হয়ে সায়দাবাদ ঘাটে পৌঁছায় এবং সেতু নির্মাণ সম্ভাব্য এলাকার ভৌগোলিক অবস্থা ও যাতায়াত ব্যবস্থা ঘুরে দেখে। এই সময়ে উপস্থিত ছিলেন এলজিইডি ব্রিজ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইবাদুর রহমান, রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, নরসিংদী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফুলকাম বাদশা, উপজেলা প্রকৌশলী মো. সজিব সরকারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও সাংবাদিকরা।

প্রতিনিধি দলের এই সফরটি বাস্তবায়ন হয়েছে রায়পুরার কৃতি সন্তান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেনের সমন্বিত প্রচেষ্টায়-এমনটাই দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরা উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ মেঘনা নদীর ওপারে যাতায়াতের জন্য নৌপথ নির্ভর। ঝুঁকিপূর্ণ এই যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একটি সেতু নির্মাণ হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই নয়, বরং কৃষি, ব্যবসা ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে।

রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন
রায়পুরায় মেঘনা নদীর উপর সেতু নির্মাণে চীনা দলের পরিদর্শন

সাবেক মেয়র আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া বলেন, “পান্থশালা ও সায়দাবাদ ঘাটে এখন হাজারো মানুষের চলাচল। ব্রিজ হলে এই দুই স্থান হবে বানিজ্যিক কেন্দ্র।” জেলা বিএনপির নেতা মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া মোহন বলেন, “এই ব্রিজের অগ্রগতি দেখে আমরা আশান্বিত। সকলের প্রচেষ্টায় কাজটি বাস্তবায়ন হোক।”

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, “মেঘনা নদীর ওপর একটি সেতু হলে বদলে যাবে এই উপজেলার আর্থসামাজিক চিত্র।”
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জিয়াউর রহমান বলেন, “ব্রিজ না থাকায় কৃষকের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে সমস্যায় পড়তে হয়। সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন।”

সবার প্রত্যাশা, মেঘনার উপর এই সেতু নির্মাণ হলে রায়পুরার যোগাযোগ, জীবনমান ও অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।