ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 92

যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস

ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাবে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান, বন্দি বিনিময় এবং গাজায় স্বাধীন প্রশাসনের বিষয়ে একমত। একইসঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ফিলিস্তিনের জাতীয় স্বার্থের আলোকে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনটি এক বিবৃতিতে শনিবার (৪ অক্টোবর) এসব কথা ঘোষণা করেছে, তথ্য দিয়েছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।

বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের এই অবস্থানটি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা শেষে নির্ধারিত হয়েছে।

তারা আরও বলেছে, হামাস কিছু শর্তসাপেক্ষে ট্রাম্পের প্রস্তাবের কয়েকটি ধারা মেনে নিয়েছে এবং একই সঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার বিষয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে।

হামাস তাদের জাতীয় দায়বদ্ধতা এবং ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গণহত্যামূলক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেছে, নিজেদের মধ্যে ব্যাপক পরামর্শ, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আঞ্চলিক বন্ধু ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথোপকথনের পরে তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে একটি দায়িত্বশীল অবস্থানে পৌঁছেছে।

যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস
যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস

বিবৃতিতে বলা হয়েছে—গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা, বন্দি বিনিময়, দ্রুত মানবিক সাহায্য প্রবেশ করানো, গাজা দখলের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জোরপূর্বক উৎখাত প্রতিরোধে আরব, ইসলামী ও বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে দখলদার বাহিনী প্রত্যাহারের পর তারা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ফর্মুলা অনুযায়ী সব ইসরায়েলি বন্দিকে (জীবিত বা মৃতদেহ) মুক্তি দিতে রাজি আছে। তারা দ্রুত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত, তবে প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠপর্যায়ের পরিবেশ তৈরির শর্তও জানিয়েছে।

বিবৃতির অন্য অংশে হামাস জানিয়েছে, গাজার প্রশাসন ফিলিস্তিনি স্বাধীন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তারা রাজি আছে, তবে শর্ত হলো—এটি অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবং আরব ও ইসলামি দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত হতে হবে।

সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছেন, গাজার ভবিষ্যৎ ও ফিলিস্তিনি জাতির মৌলিক অধিকার—যা ট্রাম্পের প্রস্তাবে উল্লিখিত—সেগুলো জাতীয় ও সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে পর্যালোচনা করতে হবে। এ পর্যালোচনা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহের আলোকে এবং একটি জাতীয় ফিলিস্তিনি কাঠামোর অধীনে হওয়া উচিত, যাতে হামাসেরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধের অবসানের জন্য ২০ দফা প্রস্তাব দেন। এতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে ইসরায়েলি বন্দির মুক্তি, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্ধারিত সীমারেখায় প্রত্যাবর্তন এবং গাজা পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস

সর্বশেষ আপডেট ০৮:০৮:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন (হামাস) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের জবাবে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের সম্পূর্ণ অবসান, বন্দি বিনিময় এবং গাজায় স্বাধীন প্রশাসনের বিষয়ে একমত। একইসঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ফিলিস্তিনের জাতীয় স্বার্থের আলোকে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠনটি এক বিবৃতিতে শনিবার (৪ অক্টোবর) এসব কথা ঘোষণা করেছে, তথ্য দিয়েছে তেহরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে।

বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে তাদের এই অবস্থানটি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা শেষে নির্ধারিত হয়েছে।

তারা আরও বলেছে, হামাস কিছু শর্তসাপেক্ষে ট্রাম্পের প্রস্তাবের কয়েকটি ধারা মেনে নিয়েছে এবং একই সঙ্গে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ও ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার বিষয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছে।

হামাস তাদের জাতীয় দায়বদ্ধতা এবং ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর গণহত্যামূলক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেছে, নিজেদের মধ্যে ব্যাপক পরামর্শ, ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং আঞ্চলিক বন্ধু ও মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথোপকথনের পরে তারা ট্রাম্পের প্রস্তাব নিয়ে একটি দায়িত্বশীল অবস্থানে পৌঁছেছে।

যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস
যে সব শর্তে ট্রাম্পের প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি হামাস

বিবৃতিতে বলা হয়েছে—গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করা, বন্দি বিনিময়, দ্রুত মানবিক সাহায্য প্রবেশ করানো, গাজা দখলের বিরোধিতা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের জোরপূর্বক উৎখাত প্রতিরোধে আরব, ইসলামী ও বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা হয়েছে।

হামাস জানিয়েছে, পূর্ণ যুদ্ধবিরতি ও গাজা থেকে দখলদার বাহিনী প্রত্যাহারের পর তারা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ফর্মুলা অনুযায়ী সব ইসরায়েলি বন্দিকে (জীবিত বা মৃতদেহ) মুক্তি দিতে রাজি আছে। তারা দ্রুত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত, তবে প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় মাঠপর্যায়ের পরিবেশ তৈরির শর্তও জানিয়েছে।

বিবৃতির অন্য অংশে হামাস জানিয়েছে, গাজার প্রশাসন ফিলিস্তিনি স্বাধীন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে তারা রাজি আছে, তবে শর্ত হলো—এটি অবশ্যই ফিলিস্তিনিদের জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এবং আরব ও ইসলামি দেশগুলোর সমর্থনে গঠিত হতে হবে।

সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছেন, গাজার ভবিষ্যৎ ও ফিলিস্তিনি জাতির মৌলিক অধিকার—যা ট্রাম্পের প্রস্তাবে উল্লিখিত—সেগুলো জাতীয় ও সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে পর্যালোচনা করতে হবে। এ পর্যালোচনা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহের আলোকে এবং একটি জাতীয় ফিলিস্তিনি কাঠামোর অধীনে হওয়া উচিত, যাতে হামাসেরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা যুদ্ধের অবসানের জন্য ২০ দফা প্রস্তাব দেন। এতে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে ইসরায়েলি বন্দির মুক্তি, ইসরায়েলি বাহিনীর নির্ধারিত সীমারেখায় প্রত্যাবর্তন এবং গাজা পুনর্গঠন ও পরিচালনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।