ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুবতীকে শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক: নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, নরসিংদী
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 85

যুবতীকে শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক: নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ৩

নরসিংদীর রায়পুরায় এক যুবতীকে রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তিন আসামিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী যুবতী হাফসা আক্তার (১৮) রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ১৭ জানুয়ারি রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাফসা আক্তার প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে একই এলাকার পাঁচ যুবক তাঁর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্তরা হলেন- চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের মো. হোসেন মিয়ার ছেলে রাহিম (১৮), আইয়ুব মিয়ার ছেলে মাহাবুবুর রহমান (২৮), রইছ উদ্দিন মেম্বারের ছেলে ত্রিদাস (২০), সমীবাদ গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে সাজিদ (১৯) এবং চরমধুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল তালুকদারের ছেলে শাহপরান (২০)।

ভুক্তভোগী অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাহাবুবুর রহমান তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ির সামনে একটি খুড়কোটার মধ্যে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে রাহিম শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সাজিদ তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। শাহপরান মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখান- কথা না শুনলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এ সময় ত্রিদাস কোমরে থাকা বেল্ট দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী একটি ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। অভিযুক্তরা আগে থেকেই পরিচিত এবং বিভিন্ন সময় তাঁকে উত্ত্যক্ত করতেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন রাহিম, মাহাবুবুর রহমান ও ত্রিদাসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পলাতক রয়েছেন সাজিদ ও শাহপরান।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুবতীকে শ্লীলতাহানির ভিডিও ছড়িয়ে আতঙ্ক: নরসিংদীতে গ্রেপ্তার ৩

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় এক যুবতীকে রাতে ঘর থেকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তিন আসামিকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। বাকি দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী যুবতী হাফসা আক্তার (১৮) রায়পুরা উপজেলার চরমধুয়া ইউনিয়নের চরমধুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত ১৭ জানুয়ারি রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টার দিকে হাফসা আক্তার প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বাইরে বের হলে একই এলাকার পাঁচ যুবক তাঁর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। অভিযুক্তরা হলেন- চরমধুয়া ইউনিয়নের গাজীপুরা গ্রামের মো. হোসেন মিয়ার ছেলে রাহিম (১৮), আইয়ুব মিয়ার ছেলে মাহাবুবুর রহমান (২৮), রইছ উদ্দিন মেম্বারের ছেলে ত্রিদাস (২০), সমীবাদ গ্রামের কামাল হোসেনের ছেলে সাজিদ (১৯) এবং চরমধুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল তালুকদারের ছেলে শাহপরান (২০)।

ভুক্তভোগী অভিযোগে উল্লেখ করেন, মাহাবুবুর রহমান তাঁর মুখ চেপে ধরে বাড়ির সামনে একটি খুড়কোটার মধ্যে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে রাহিম শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সাজিদ তাঁর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে ছিঁড়ে ফেলেন এবং শ্লীলতাহানি করেন। শাহপরান মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে ভয় দেখান- কথা না শুনলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এ সময় ত্রিদাস কোমরে থাকা বেল্ট দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যান।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ভুক্তভোগী একটি ফার্মেসি থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার পর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। অভিযুক্তরা আগে থেকেই পরিচিত এবং বিভিন্ন সময় তাঁকে উত্ত্যক্ত করতেন।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন রাহিম, মাহাবুবুর রহমান ও ত্রিদাসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। পলাতক রয়েছেন সাজিদ ও শাহপরান।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিন আসামিকে আটক করা হয়েছে। বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।