ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিকলবন্দি হয়ে ফিরলেন ৩০ অভিবাসী

বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 119

যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিকলবন্দি হয়ে ফিরলেন ৩০ অভিবাসী

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের ফেরত পাঠানো আরও ৩০ বাংলাদেশি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বিশেষভাবে ভাড়া করা একটি বিমানে তারা দেশে ফেরেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। যাত্রীদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, অবতরণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিমানটি রানওয়েতে অবস্থান করে। ওই সময়েই ফেরত আসা ব্যক্তিদের হাতকড়া ও শিকল খোলা হয়। এরপর গভীর রাতে তাদের বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে আনা হয় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা পুরো প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীরা বিধ্বস্ত অবস্থায় নেমেছেন। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রায় তারা হাত-পায়ে শিকল বেঁধে ছিলেন। নোয়াখালীর তরুণ আব্দুল্লাহ বলেন, “দেশে ফেরার হতাশা তো আছেই, তার ওপর সন্ত্রাসীর মতো শিকল পরিয়ে ফিরিয়ে আনা—এ অভিজ্ঞতা যেন আর কারও না হয়।”

ভুক্তভোগীরা জানান, পুরো যাত্রায় তাদের খাবার হিসেবে শুধু রুটি আর পানি দেওয়া হয়। টয়লেটে যাওয়ার সময়ও একজন অফিসার শিকলবদ্ধ অবস্থায় সঙ্গ দিয়ে নিয়ে যেতেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। গত কয়েক মাসে অন্তত ১৮০ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২ আগস্ট সি-১৭ সামরিক উড়োজাহাজে ৩৯ জনকে দেশে পাঠানো হয়, সবার হাত-পায়ে শিকল ছিল।

ফেরত আসাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। মেক্সিকো হয়ে যাত্রাপথে বহুজন মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে আটক হন এবং মুক্তির জন্য পরিবারের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ অভিবাসন প্রত্যাশীদের শিকল বা হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী। ব্র্যাকের অভিবাসন বিষয়ক পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, উন্নত জীবনের স্বপ্নে মানুষ বিদেশে যায়, কিন্তু এভাবে ফেরত আসা তাদের জন্য সারাজীবনের ট্রমা হয়ে থাকে। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আরও মানবিক হওয়া উচিত।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে শিকলবন্দি হয়ে ফিরলেন ৩০ অভিবাসী

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০০:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের ফেরত পাঠানো আরও ৩০ বাংলাদেশি বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঢাকায় পৌঁছেছেন। বিশেষভাবে ভাড়া করা একটি বিমানে তারা দেশে ফেরেন। হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। যাত্রীদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, অবতরণের পর প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বিমানটি রানওয়েতে অবস্থান করে। ওই সময়েই ফেরত আসা ব্যক্তিদের হাতকড়া ও শিকল খোলা হয়। এরপর গভীর রাতে তাদের বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে আনা হয় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ টিম, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা পুরো প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যাত্রীরা বিধ্বস্ত অবস্থায় নেমেছেন। দীর্ঘ ৬০ ঘণ্টার যাত্রায় তারা হাত-পায়ে শিকল বেঁধে ছিলেন। নোয়াখালীর তরুণ আব্দুল্লাহ বলেন, “দেশে ফেরার হতাশা তো আছেই, তার ওপর সন্ত্রাসীর মতো শিকল পরিয়ে ফিরিয়ে আনা—এ অভিজ্ঞতা যেন আর কারও না হয়।”

ভুক্তভোগীরা জানান, পুরো যাত্রায় তাদের খাবার হিসেবে শুধু রুটি আর পানি দেওয়া হয়। টয়লেটে যাওয়ার সময়ও একজন অফিসার শিকলবদ্ধ অবস্থায় সঙ্গ দিয়ে নিয়ে যেতেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর অভিযান জোরদার করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এ প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। গত কয়েক মাসে অন্তত ১৮০ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত ২ আগস্ট সি-১৭ সামরিক উড়োজাহাজে ৩৯ জনকে দেশে পাঠানো হয়, সবার হাত-পায়ে শিকল ছিল।

ফেরত আসাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মানবপাচার চক্রের মাধ্যমে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। মেক্সিকো হয়ে যাত্রাপথে বহুজন মাফিয়া গোষ্ঠীর হাতে আটক হন এবং মুক্তির জন্য পরিবারের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ অভিবাসন প্রত্যাশীদের শিকল বা হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী। ব্র্যাকের অভিবাসন বিষয়ক পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, উন্নত জীবনের স্বপ্নে মানুষ বিদেশে যায়, কিন্তু এভাবে ফেরত আসা তাদের জন্য সারাজীবনের ট্রমা হয়ে থাকে। প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া আরও মানবিক হওয়া উচিত।