ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে বহু বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 59

যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে বহু বাংলাদেশি

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার ‘চরম ও গোপন’ ক্ষমতা দেশটির বহু নাগরিককে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাখ লাখ ব্রিটিশ মুসলিম। বিশেষ করে ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার নাগরিকরা।

গেল বৃহস্পতিবার রানিমেড ট্রাস্ট এবং রিপ্রিভ প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্রিটিশ সরকারের এই ক্ষমতার ফলে লাখো মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ বা প্রায় ৯০ লাখ মানুষ, হোম সেক্রেটারির বিবেচনায় আইনগতভাবে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই ক্ষমতা অসমভাবে প্রভাব ফেলছে এবং ঝুঁকিতে ফেলছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক থাকা নাগরিকদের।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে যদি সরকার মনে করে তারা অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। এমনকি তারা যদি কখনো সে দেশে বসবাস না করে থাকেন বা সেই দেশের সঙ্গে নিজেদের পরিচয়ও না দেন তারপরও।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে নাগরিকত্বের একটি বর্ণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়, ব্রিটেনে অন্তর্ভুক্তি শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা এ ধরনের বাধা ধরার মধ্যে পড়েন না।

রিপ্রিভের মায়া ফোয়া মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আগের সরকার মানব পাচারের শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল। আর বর্তমান সরকার এ চরম ও গোপন ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ৯০ লাখ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন, তাদের জন্য এটি (এ চরম ও গোপন ক্ষমতা) বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে যদি পুরোপুরি কর্তৃত্ববাদী কোনো সরকার সামনে ক্ষমতায় আসে।’

রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যথেচ্ছ কর্তৃত্ব ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রিপ্রিভ ও রানিমিড ট্রাস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি মাত্র ২০ জনে ১ জন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ৬ লাখ ৭৯ হাজার, বাংলাদেশিসহ ঝুঁকিতে থাকা ৩৩ লাখ এশীয় ব্রিটিশ সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে আছেন। বাস্তবে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত মুসলিম।

২০১০ সালের পর থেকে “জনস্বার্থের পরিপন্থী” বিবেচনায় ২০০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে দেশটিতে, যাদের সিংহভাগই মুসলিম। ২০২২ সালে সরকার এমন ক্ষমতা পায়, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না জানিয়েই নাগরিকত্ব বাতিল করা সম্ভব। ২০২৫ সালের একটি আইন নিশ্চিত করেছে, আদালত নাগরিকত্ব বাতিলকে বেআইনি ঘোষণা করলেও সরকারের আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকত্ব ফেরত দেয়া হবে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে বহু বাংলাদেশি

সর্বশেষ আপডেট ০৩:৪১:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার ‘চরম ও গোপন’ ক্ষমতা দেশটির বহু নাগরিককে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে লাখ লাখ ব্রিটিশ মুসলিম। বিশেষ করে ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার নাগরিকরা।

গেল বৃহস্পতিবার রানিমেড ট্রাস্ট এবং রিপ্রিভ প্রকাশিত গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্রিটিশ সরকারের এই ক্ষমতার ফলে লাখো মানুষ তাদের নাগরিকত্ব হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ বা প্রায় ৯০ লাখ মানুষ, হোম সেক্রেটারির বিবেচনায় আইনগতভাবে নাগরিকত্ব হারাতে পারেন। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এই ক্ষমতা অসমভাবে প্রভাব ফেলছে এবং ঝুঁকিতে ফেলছে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সঙ্গে ঐতিহ্যগত সম্পর্ক থাকা নাগরিকদের।

বর্তমান আইন অনুযায়ী, ব্রিটিশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে যদি সরকার মনে করে তারা অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য। এমনকি তারা যদি কখনো সে দেশে বসবাস না করে থাকেন বা সেই দেশের সঙ্গে নিজেদের পরিচয়ও না দেন তারপরও।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, অধিক মুসলিম জনসংখ্যার দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ, সোমালিয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে নাগরিকত্বের একটি বর্ণভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। এতে আরও বলা হয়, ব্রিটেনে অন্তর্ভুক্তি শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা এ ধরনের বাধা ধরার মধ্যে পড়েন না।

রিপ্রিভের মায়া ফোয়া মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘রাজনৈতিক সুবিধার জন্য আগের সরকার মানব পাচারের শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছিল। আর বর্তমান সরকার এ চরম ও গোপন ক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে ৯০ লাখ মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে পারেন, তাদের জন্য এটি (এ চরম ও গোপন ক্ষমতা) বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়, বিশেষ করে যদি পুরোপুরি কর্তৃত্ববাদী কোনো সরকার সামনে ক্ষমতায় আসে।’

রানিমিড ট্রাস্টের পরিচালক শাবনা বেগমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যথেচ্ছ কর্তৃত্ব ব্রিটেনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। রিপ্রিভ ও রানিমিড ট্রাস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অশ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ব্রিটিশ নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি মাত্র ২০ জনে ১ জন।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ৬ লাখ ৭৯ হাজার, বাংলাদেশিসহ ঝুঁকিতে থাকা ৩৩ লাখ এশীয় ব্রিটিশ সবচেয়ে বেশি সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর মধ্যে আছেন। বাস্তবে যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই দক্ষিণ এশীয়, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত মুসলিম।

২০১০ সালের পর থেকে “জনস্বার্থের পরিপন্থী” বিবেচনায় ২০০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে দেশটিতে, যাদের সিংহভাগই মুসলিম। ২০২২ সালে সরকার এমন ক্ষমতা পায়, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে না জানিয়েই নাগরিকত্ব বাতিল করা সম্ভব। ২০২৫ সালের একটি আইন নিশ্চিত করেছে, আদালত নাগরিকত্ব বাতিলকে বেআইনি ঘোষণা করলেও সরকারের আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকত্ব ফেরত দেয়া হবে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই