ঢাকা ০২:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যানবাহন চলাচলের জন্য চালু হলো টিটিপাড়া আন্ডারপাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 80

যানবাহন চলাচলের জন্য চালু হলো টিটিপাড়া আন্ডারপাস

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে টিটিপাড়া আন্ডারপাস যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য চালু হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন আন্ডারপাসটি পরিদর্শন করেন এবং তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অতীশ দীপঙ্কর রোডের এক প্রান্তে এবং কমলাপুর আউটার সার্কুলার রোডের অন্য প্রান্তে অবস্থিত টিটিপাড়ার এই লেভেল ক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণ ছিল। ট্রেন ও সড়কপথের যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এটি আন্ডারপাসে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল, যা অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই বছরের নির্মাণকাজ শেষে আন্ডারপাসটি তৈরি করা হয়েছে। নিচ দিয়ে ছয় লেনের রাস্তা নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে চার লেন যান্ত্রিক যানবাহনের জন্য নির্ধারিত। পাঁচ মিটার উচ্চতার গাড়িও সহজে চলাচল করতে পারবে। দুই পাশে রিকশা ও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন এবং পথচারীদের জন্য প্রশস্ত ফুটপাত রাখা হয়েছে।

রিকশা ও সাইকেলের জন্য ঢাল কম রাখতে দুই পাশের লেন মাঝের চার লেনের তুলনায় কিছুটা উঁচু করা হয়েছে। এখন ওপরে ট্রেন আর নিচে সড়কপথে যানবাহন চলবে বাধাহীনভাবে। সড়কের মাঝের ডিভাইডারে ফুলগাছ, রোড মার্কিং এবং আধুনিক ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থায় আন্ডারপাসটি পেয়েছে আকর্ষণীয় সৌন্দর্য।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ জামিউল ইসলাম বলেন, “এখানে জায়গার সীমাবদ্ধতা ছিল। ডান পাশে কমলাপুর আইসিটি কর্তৃপক্ষের কিছু জায়গা পাওয়া গেলেও বাইপাস নির্মাণ সম্ভব হয়নি। আন্ডারপাসের গভীরতা বেশি হওয়ায় সামান্য বাইপাস রাস্তাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “স্থাপনাটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এটি শুধু রেলওয়ের নয়, বরং একাধিক সংস্থার যৌথ দায়িত্ব। বিশেষ করে পাম্প হাউসটি যেন দুর্যোগকালেও সচল থাকে, তা নিশ্চিত করতে রেলওয়েকে উদ্যোগ নিতে হবে।”

মূল সড়ক থেকে প্রায় ১১ মিটার নিচে তৈরি আন্ডারপাসটিতে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে বর্ষাকালে পানি না জমে। প্রকল্পের প্রকৌশলী নীলাকর বিশ্বাস জানান, টিটিপাড়া আন্ডারপাসে আলাদা একটি ‘রেইনওয়াটার পাম্প ওয়েল’ স্থাপন করা হয়েছে। চারটি ৭৫ কিলোওয়াটের পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি নিষ্কাশন করে পাশের সিটি কর্পোরেশনের ক্যানেলে পাঠাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আজ সকালে উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আন্ডারপাসটি পরিদর্শন করে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন ছিল না। সকাল ১০টা থেকেই এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।”

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যানবাহন চলাচলের জন্য চালু হলো টিটিপাড়া আন্ডারপাস

সর্বশেষ আপডেট ০২:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে টিটিপাড়া আন্ডারপাস যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এটি সর্বসাধারণের জন্য চালু হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

সকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন আন্ডারপাসটি পরিদর্শন করেন এবং তা খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অতীশ দীপঙ্কর রোডের এক প্রান্তে এবং কমলাপুর আউটার সার্কুলার রোডের অন্য প্রান্তে অবস্থিত টিটিপাড়ার এই লেভেল ক্রসিং দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনদুর্ভোগের কারণ ছিল। ট্রেন ও সড়কপথের যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এটি আন্ডারপাসে রূপান্তর করা হয়। এর ফলে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল, যা অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় প্রায় দুই বছরের নির্মাণকাজ শেষে আন্ডারপাসটি তৈরি করা হয়েছে। নিচ দিয়ে ছয় লেনের রাস্তা নির্মিত হয়েছে, যার মধ্যে চার লেন যান্ত্রিক যানবাহনের জন্য নির্ধারিত। পাঁচ মিটার উচ্চতার গাড়িও সহজে চলাচল করতে পারবে। দুই পাশে রিকশা ও সাইকেলের জন্য আলাদা লেন এবং পথচারীদের জন্য প্রশস্ত ফুটপাত রাখা হয়েছে।

রিকশা ও সাইকেলের জন্য ঢাল কম রাখতে দুই পাশের লেন মাঝের চার লেনের তুলনায় কিছুটা উঁচু করা হয়েছে। এখন ওপরে ট্রেন আর নিচে সড়কপথে যানবাহন চলবে বাধাহীনভাবে। সড়কের মাঝের ডিভাইডারে ফুলগাছ, রোড মার্কিং এবং আধুনিক ল্যাম্পপোস্টের ব্যবস্থায় আন্ডারপাসটি পেয়েছে আকর্ষণীয় সৌন্দর্য।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ জামিউল ইসলাম বলেন, “এখানে জায়গার সীমাবদ্ধতা ছিল। ডান পাশে কমলাপুর আইসিটি কর্তৃপক্ষের কিছু জায়গা পাওয়া গেলেও বাইপাস নির্মাণ সম্ভব হয়নি। আন্ডারপাসের গভীরতা বেশি হওয়ায় সামান্য বাইপাস রাস্তাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যেত।”

তিনি আরও বলেন, “স্থাপনাটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। এটি শুধু রেলওয়ের নয়, বরং একাধিক সংস্থার যৌথ দায়িত্ব। বিশেষ করে পাম্প হাউসটি যেন দুর্যোগকালেও সচল থাকে, তা নিশ্চিত করতে রেলওয়েকে উদ্যোগ নিতে হবে।”

মূল সড়ক থেকে প্রায় ১১ মিটার নিচে তৈরি আন্ডারপাসটিতে আধুনিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে বর্ষাকালে পানি না জমে। প্রকল্পের প্রকৌশলী নীলাকর বিশ্বাস জানান, টিটিপাড়া আন্ডারপাসে আলাদা একটি ‘রেইনওয়াটার পাম্প ওয়েল’ স্থাপন করা হয়েছে। চারটি ৭৫ কিলোওয়াটের পাম্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে পানি নিষ্কাশন করে পাশের সিটি কর্পোরেশনের ক্যানেলে পাঠাবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, “আজ সকালে উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আন্ডারপাসটি পরিদর্শন করে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এজন্য আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন ছিল না। সকাল ১০টা থেকেই এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।”