ঢাকা ১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যশোরে এক দিনে কাঁচামরিচ কেজিতে ১৭০ টাকা বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর
  • সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
  • / 70

যশোরে এক দিনে কাঁচামরিচ কেজিতে ১৭০ টাকা বেড়েছে

যশোরে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের খুচরা মূল্য কেজিতে ১৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) শহরের বড় বাজারে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে, যা গতকাল ছিল ২৮০ থেকে ২৯০ টাকার মধ্যে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি প্রধান কারণ। কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রানা গাজী জানিয়েছেন, দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ এখন খুবই কম। পাইকারি বাজারে মানভেদে কাঁচামরিচ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে আগে থেকে মজুত থাকা কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কম থাকলেও, আমদানি দ্রুত না হলে দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

দিপু বিশ্বাস নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে, তবে ফসলের ক্ষতি আরও বাড়বে এবং দাম আরও বেড়ে যাবে। যশোরের বাজার এখন পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সাধারণ ক্রেতারা অসাধারণ মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাসরিন বেগম বলেন, “এক দিনের মধ্যে দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য কাঁচামরিচ কেনা অসম্ভব হয়ে গেছে। বাজার মনিটরিং কি চলছে?” আরেক গৃহিণী বলেন, “সবজির বাজারে এমনিতেই দাম বেশি, এখন কাঁচামরিচ ৪০০–৪৫০ টাকায় হলে নিম্নবিত্তের সংসার চলবে কীভাবে?” তিনি সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোর সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জানান, বর্ষাকালীন মৌসুমে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে দামের অবৈধ বৃদ্ধি করছে কিনা সেটিও তদারকি করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, এবছর জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রানজিশন পিরিয়ডের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন কাঁচামরিচ বাজারে আসতে ১৫–২০ দিন সময় লাগবে। এরপর দাম আবার কেজিতে ৫–১০ টাকা কমে আসবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

যশোরে এক দিনে কাঁচামরিচ কেজিতে ১৭০ টাকা বেড়েছে

সর্বশেষ আপডেট ০৫:০৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫

যশোরে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের খুচরা মূল্য কেজিতে ১৭০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) শহরের বড় বাজারে দেখা গেছে, কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজিতে, যা গতকাল ছিল ২৮০ থেকে ২৯০ টাকার মধ্যে।

বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে ফসলের ক্ষতি প্রধান কারণ। কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রানা গাজী জানিয়েছেন, দেশি কাঁচামরিচের সরবরাহ এখন খুবই কম। পাইকারি বাজারে মানভেদে কাঁচামরিচ ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে আগে থেকে মজুত থাকা কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কম থাকলেও, আমদানি দ্রুত না হলে দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।

দিপু বিশ্বাস নামের একজন ব্যবসায়ী বলেন, বৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে, তবে ফসলের ক্ষতি আরও বাড়বে এবং দাম আরও বেড়ে যাবে। যশোরের বাজার এখন পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

সাধারণ ক্রেতারা অসাধারণ মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। নাসরিন বেগম বলেন, “এক দিনের মধ্যে দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য কাঁচামরিচ কেনা অসম্ভব হয়ে গেছে। বাজার মনিটরিং কি চলছে?” আরেক গৃহিণী বলেন, “সবজির বাজারে এমনিতেই দাম বেশি, এখন কাঁচামরিচ ৪০০–৪৫০ টাকায় হলে নিম্নবিত্তের সংসার চলবে কীভাবে?” তিনি সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের যশোর সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জানান, বর্ষাকালীন মৌসুমে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করে দামের অবৈধ বৃদ্ধি করছে কিনা সেটিও তদারকি করা হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, এবছর জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষেতের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রানজিশন পিরিয়ডের কারণে দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন কাঁচামরিচ বাজারে আসতে ১৫–২০ দিন সময় লাগবে। এরপর দাম আবার কেজিতে ৫–১০ টাকা কমে আসবে।