মোংলাপোর্ট পৌরসভার ডাম্পিংয়ে দূষণের কবলে সুন্দরবন
- সর্বশেষ আপডেট ০৬:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫
- / 570
মোংলাপোর্ট পৌরসভার ডাম্পিং করা প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য থেকে সুন্দরবন, নদ-নদী ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। শহরের ‘ফুসফুস’ খ্যাত পশুর ও মোংলা নদীর মোহনায় মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশে অবস্থিত পৌরসভার বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনটি বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, পশুর ও মোংলা নদীর ১৭ প্রজাতির মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এসব মাছ মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে, যার পরিণতি হতে পারে মৃত্যু। তাই এখনই সময়, প্লাস্টিক দূষণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ৪ জুন (বুধবার) সকালে মোংলার মেরিন ড্রাইভ রোডে আয়োজিত প্রতীকী প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার অভিযানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার এবং সার্ভিস বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
সকাল ১১টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সুন্দরবন রক্ষায় আমাদের সমন্বয়কারী এবং পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, কমলা সরকার (ধরা), আব্দুর রশিদ হাওলাদার (ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ), মোস্তাফিজুর রহমান মিলন (সার্ভিস বাংলাদেশ), হাছিব সরদার (সুন্দরবন রক্ষায় আমরা), ছাত্রনেতা শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত আমীন দুর্জয়, ডলার মোল্লা, সাব্বির হাসান দীপ্ত, মেহেদী হাসান (ভলান্টিয়ার), মোহাম্মদ শাহীন খলিফা (ইয়ুথ ফর সুন্দরবন ফোরাম), জানে আলম বাবু ও মোল্লা আল মামন (মোংলা নাগরিক সমাজ), নুশরাত জাহান (সিএনআরএস), আবু হাসান (বিডি ক্লিন), শেখ রিয়াজ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূর আলম শেখ বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ১১ মিলিয়ন টন প্লাস্টিক বর্জ্য জলজ পরিবেশে প্রবেশ করছে। এসব বর্জ্য জীববৈচিত্র্য ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। মোংলাপোর্ট পৌরসভার মেরিন ড্রাইভ রোডের পাশে প্লাস্টিক পলিথিনের ডাম্পিং স্টেশনটি সুন্দরবন, নদী ও আশপাশের পরিবেশকে ধ্বংস করছে।”
তিনি আরও বলেন, “অবিলম্বে মোংলার ‘ফুসফুস’ খ্যাত এ এলাকায় থেকে বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশন সরিয়ে নিতে হবে। প্রাথমিকভাবে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে এবং পর্যায়ক্রমে সারা দেশ থেকে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করতে হবে।”
বিশ্ব ঐতিহ্য ও এশিয়ার ফুসফুস সুন্দরবনে প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ করি, একটি পরিবেশবান্ধব বিশ্ব গড়ি।”


































