মৃত্যুর ৫৫ মিনিট পর অবন্তিকার ফেসবুক পোস্টের রহস্য
- সর্বশেষ আপডেট ১০:৩৮:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
- / 136
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকা গত বছরের ১৫ মার্চ কুমিল্লায় নিজ বাসায় আত্মহত্যা করেন। ঘটনার পর তার ফেসবুক আইডি থেকে এক পোস্টে সহপাঠী রায়হান সিদ্দিক আম্মান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলামকে দায়ী করা হয়। এই পোস্টের সময় ও মৃত্যুর সময়ের অমিল ঘিরে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবন্তিকার মৃত্যুর সময় রাত ৯টা হিসেবে সুরতহালে উল্লেখ থাকলেও ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে তার ফেসবুক আইডি থেকে ওই পোস্টটি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর ৫৫ মিনিট পর পোস্টটি কে করেছে; তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশের তদন্তে আম্মানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার প্রমাণ মেলেছে, তবে দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। ফলে তাকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ১৫ মার্চ ইফতারের পর অবন্তিকা নিজের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরিবারের ডাকেও কোনো সাড়া না পেয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধকে আত্মহত্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলা হয়েছে, তবে যৌন সহিংসতার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিকে পাঠানো হলে দেখা যায়, মৃত্যুর কিছু পরেই ফেসবুক পোস্টটি দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুর সময় ফোনটি তার কক্ষে ছিল, তখন কক্ষে মা ও ভাই ছাড়া অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না। পোস্টদাতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ মেলেনি।
পূর্ববর্তী বিরোধের সূত্রপাত ২০২২ সালে, যখন অবন্তিকা একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে কয়েকজন সহপাঠীর বিরুদ্ধে পোস্ট দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে লিখিত ক্ষমা প্রার্থনার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। তবে ২০২৩ সালের নভেম্বরে অবন্তিকা লিখিতভাবে অভিযোগ করেন, আম্মান তাকে হয়রানি ও হুমকি দিচ্ছেন। এর সমাধান না হওয়ায় দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে এবং অবশেষে তিনি আত্মহত্যা করেন।
অবন্তিকার মা তাহমিনা বেগম অভিযোগ করেন, মৃত্যুর আগে দেওয়া পোস্টে দ্বীন ইসলামের নাম উল্লেখ থাকলেও পুলিশ সঠিক তদন্ত করেনি। অন্যদিকে দ্বীন ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি নির্দোষ এবং ঘটনার সময় অবন্তিকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
আম্মানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ রহস্যময় ফেসবুক পোস্টটি এখনো তদন্তের অমীমাংসিত অংশ হিসেবে রয়ে গেছে।
































