মুস্তাফিজ ইস্যুতে শাহরুখকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা
- সর্বশেষ আপডেট ১২:০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 102
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন বলিউড সুপারস্টার ও দলটির মালিক শাহরুখ খান। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে একাধিক হিন্দু ধর্মগুরু ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ নেতার কাছ থেকে কড়া সমালোচনা ও আক্রমণের মুখে পড়েছেন তিনি।
সমালোচকদের দাবি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সহিংসতার অভিযোগের প্রেক্ষাপটে একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে আইপিএল দলে নেওয়া অনৈতিক ও অনুচিত। তারা কেকেআরের ব্যবস্থাপনার কাছে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রথম প্রকাশ্য সমালোচনা করেন হিন্দু ধর্মগুরু দেবকীনন্দন ঠাকুর। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে কেকেআরের উচিত মুস্তাফিজকে দলে না রাখা। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ওই ক্রিকেটারকে দেওয়া ৯.২ কোটি রুপি ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণ করা হোক।
এ বিতর্কে আরও তীব্রতা আনেন আরেক ধর্মগুরু জগদগুরু স্বামী রামভদ্রাচার্য। তিনি শাহরুখ খানের দেশপ্রেম নিয়েই প্রশ্ন তুলে তাকে ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দেন।
বিতর্কে যোগ দেন বিজেপি নেতা সঙ্গীত সোমও। এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি শাহরুখ খানকে সরাসরি ‘দেশদ্রোহী’ বলে আক্রমণ করেন এবং দাবি করেন, ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত একটি দেশের খেলোয়াড়কে আইপিএলে খেলতে দেওয়া হবে না। এমনকি মুস্তাফিজ ভারতে এলে বিমানবন্দর থেকেই তাকে আটকে দেওয়া হবে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
এই তীব্র সমালোচনার পাল্টা জবাব দিয়েছে কংগ্রেস। দলটির সংসদ সদস্য মানিকম ঠাকুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহরুখ খানের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, “একজন সুপারস্টারকে ‘দেশদ্রোহী’ বলা ভারতের বহুত্ববাদী চেতনার ওপর সরাসরি আঘাত। ঘৃণা কখনোই জাতীয়তাবাদ হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি আরএসএসকে সমাজে বিভাজনমূলক রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানান।
কংগ্রেস নেতারা আরও বলেন, আইপিএল একটি পেশাদার ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যেখানে খেলোয়াড় নির্বাচন হয় দক্ষতা, পারফরম্যান্স ও চুক্তির ভিত্তিতে—জাতীয়তা বা ধর্মের ভিত্তিতে নয়। তাদের মতে, শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে এই আক্রমণ কেবল একজন অভিনেতা বা ক্রীড়া উদ্যোক্তাকে লক্ষ্য করে নয়, বরং ভারতের সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ ও ক্রীড়ার সার্বজনীন মূল্যবোধকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কেকেআর বা শাহরুখ খানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহু সমর্থক মত দিচ্ছেন—ক্রিকেটকে রাজনীতির বাইরে রেখেই দেখা উচিত।




































