ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পরিবারের দাবি

মিথ্যা অভিযোগে ১০ মাস ধরে কারাগারে দিলীপ আগরওয়ালা

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫
  • / 218

দিলীপ আগরওয়ালা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখার পরও মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা-বাণিজ্যের শিকার হয়ে প্রায় ১০ মাস ধরে কারাগারে আছেন দেশের শীর্ষ জুয়েলারি ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এমন অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা

দিলীপের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের একের পর এক মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করায় দেশের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাধিকবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। দেশের স্বর্ণ ব্যবসার নীতিমালা প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দেশের যে কোনো দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানেও তিনি ছিলেন অগ্রণী।

তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘তারা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। টিউশন ফি রিবেট, বিজ্ঞান পরীক্ষাগার নির্মাণ, অসহায়দের ঘর নির্মাণ, মিড-ডে মিল কর্মসূচি, বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা—এসব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড তিনি পরিচালনা করে আসছেন। কোভিড মহামারির সময় দিলীপ আগরওয়ালা রাজধানীসহ তিনটি জেলায় মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

জানা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশানের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। তাঁর সহকর্মীদের দাবি, দিলীপ কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার, পানি ও ছাতা সরবরাহ করা হয়েছিল তাঁর নির্দেশেই। এরপরও তাঁকে একাধিক হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সহকর্মীরা।

তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। শুধু দিলীপই নন, সারা দেশের শত শত ব্যবসায়ী এই ধরনের মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন।

দিলীপ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এসব রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি দেশে ও বিদেশে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কারাগারে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে এবং চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। জামিনের জন্য বারবার আবেদন করলেও আদালতের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, এতে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার ও ব্যবসায়ী মহল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, যিনি পাঁচবার সিআইপি এবং খুলনা বিভাগ থেকে টানা ৯ বার সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হলে আদালতের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসা শেষ না করেই তাঁকে ফের কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষায়, মানবিক দিক বিবেচনায় এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে মিথ্যা মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা ও কর্মীরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

পরিবারের দাবি

মিথ্যা অভিযোগে ১০ মাস ধরে কারাগারে দিলীপ আগরওয়ালা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:২২:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ জুন ২০২৫

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ভূমিকা রাখার পরও মিথ্যা অভিযোগ ও মামলা-বাণিজ্যের শিকার হয়ে প্রায় ১০ মাস ধরে কারাগারে আছেন দেশের শীর্ষ জুয়েলারি ব্যবসায়ী দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। এমন অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা

দিলীপের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের একের পর এক মিথ্যা অভিযোগে হয়রানি করায় দেশের ব্যবসায়ীরা বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের একাধিকবারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দেশীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। দেশের স্বর্ণ ব্যবসার নীতিমালা প্রণয়নে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি দেশের যে কোনো দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদানেও তিনি ছিলেন অগ্রণী।

তাঁর মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘তারা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। টিউশন ফি রিবেট, বিজ্ঞান পরীক্ষাগার নির্মাণ, অসহায়দের ঘর নির্মাণ, মিড-ডে মিল কর্মসূচি, বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা—এসব সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড তিনি পরিচালনা করে আসছেন। কোভিড মহামারির সময় দিলীপ আগরওয়ালা রাজধানীসহ তিনটি জেলায় মাস্ক, পিপিই, স্যানিটাইজার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

জানা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর রাতে গুলশানের অফিস থেকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। তাঁর সহকর্মীদের দাবি, দিলীপ কোনো অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার, পানি ও ছাতা সরবরাহ করা হয়েছিল তাঁর নির্দেশেই। এরপরও তাঁকে একাধিক হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যমূলক ও প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর সহকর্মীরা।

তাঁর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা করা হয়েছে। শুধু দিলীপই নন, সারা দেশের শত শত ব্যবসায়ী এই ধরনের মিথ্যা মামলার শিকার হচ্ছেন। এর ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন।

দিলীপ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। এসব রোগের চিকিৎসার জন্য তিনি দেশে ও বিদেশে নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কারাগারে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে এবং চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। জামিনের জন্য বারবার আবেদন করলেও আদালতের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, এতে উদ্বিগ্ন তাঁর পরিবার ও ব্যবসায়ী মহল।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দিলীপ কুমার আগরওয়ালা একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী, যিনি পাঁচবার সিআইপি এবং খুলনা বিভাগ থেকে টানা ৯ বার সেরা করদাতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর তত্ত্বাবধান ছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হলে আদালতের নির্দেশে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু চিকিৎসা শেষ না করেই তাঁকে ফের কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়। বর্তমানে তিনি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। তাই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য রক্ষায়, মানবিক দিক বিবেচনায় এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁকে মিথ্যা মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি দিয়ে দ্রুত জামিনে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা ও কর্মীরা।