ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 56

ছবি সংগৃহীত

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ মোট ১৭০ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে এক দফা দাবিতে চলমান অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন কলেজ শিক্ষার্থী মাসুম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে মোট ২২১ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, এজাহারভুক্ত ১২ জন ও সন্দেহভাজন ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে তিনজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, পলাতক ১৭০ আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার হবে শিশু আদালতে। রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মামুন বলেন, সাড়ে পাঁচ মাস পর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২২ জানুয়ারি।

মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারা। নিহত মাসুম সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা। উল্লেখ্য, ৪ আগস্টের ওই সহিংস ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় এ পর্যন্ত ২৪টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি হত্যা মামলা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মাসুম হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ১৭০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ মোট ১৭০ পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফেনী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাসান মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে এক দফা দাবিতে চলমান অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন কলেজ শিক্ষার্থী মাসুম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ৭ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ৪ সেপ্টেম্বর ফেনী মডেল থানায় ১৬২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে মোট ২২১ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, এজাহারভুক্ত ১২ জন ও সন্দেহভাজন ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে তিনজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, পলাতক ১৭০ আসামির বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার হবে শিশু আদালতে। রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মামুন বলেন, সাড়ে পাঁচ মাস পর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২২ জানুয়ারি।

মামলায় আরও যাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ফেনী ও আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগের সাবেক শীর্ষ নেতারা। নিহত মাসুম সোনাগাজীর চরচান্দিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

নিহতের ভাই মাহমুদুল হাসান বলেন, ভাইয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তারা। উল্লেখ্য, ৪ আগস্টের ওই সহিংস ঘটনায় ফেনী মডেল থানায় এ পর্যন্ত ২৪টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি হত্যা মামলা।