মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান
- সর্বশেষ আপডেট ০৩:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জুন ২০২৫
- / 143
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। দেশটি সেখানে মিসাইল ও অন্যান্য আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র।
বুধবার (১৮ জুন) নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ ঠেকাতে এ ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান যেকোনো সময় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা চালাতে পারে। বিশেষ করে ফোর্ডোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হলে, তার জবাবে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে আবারও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করতে পারে।
এছাড়া, ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোও মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালানোর প্রস্তুতিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে কয়েক ডজন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধবিমান বা বোমারু বিমানের পাল্লা বাড়ানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনে ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের মিসাইলের কার্যক্ষমতার আওতায় রয়েছে। ইতোমধ্যে জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দুই ইরানি কর্মকর্তা জানান, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের পাশে অবস্থান নেয়, তাহলে ইরান প্রথমে ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালাবে। একই সঙ্গে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব মার্কিন ঘাঁটি সংঘাতে জড়াবে, সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের শত্রুরা যেন বুঝে নেয়— সামরিক চাপ প্রয়োগ করে তারা আমাদের নীতি পরিবর্তন করাতে পারবে না। যুদ্ধ বিস্তৃত হলে এর দায় পুরোপুরি ইসরায়েল ও তাদের মিত্রদের।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাতের পরিধি বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
































