ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহাসড়কে কেটা ফেলা জায়গায় ৬৪ বকুল গাছ রোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫
  • / 54

বকুল গাছ রোপন

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বেলতলী এলাকায় বিভাজকে কেটে ফেলা গাছের স্থানে নতুন করে ৬৪টি বকুল গাছ রোপণ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে এসব গাছ লাগান।

কুমিল্লা সওজের উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান জানান, কাটা গাছের জায়গায় বকুল গাছ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং যিনি আগের গাছগুলো উজাড় করেছিলেন তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এসব গাছের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য আলাদা কোনো জনবল নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্মাণশ্রমিকরাই দেখভাল করেন।

কুমিল্লার উদ্ভিদপ্রেমী চিকিৎসক আবু নাঈম বলেন, বকুল গাছ টেকসই ও কষ্টসহিষ্ণু। মহাসড়কের বাঁকবদল থাকা এলাকায় এই গাছ চালকদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী, কারণ বড় হওয়া গাছের পাতার আড়ালে এক পাশের গাড়ির হেডলাইটের আলো সরাসরি অন্য পাশের চালকের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমে।

সম্প্রতি এই মহাসড়কের বেলতলী এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক বকুল গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে রোপিত প্রায় নয় বছরের সেই গাছগুলো কেটে ফেলেন স্থানীয় এক চা দোকানি আজমির হোসেন। সওজ মামলা দায়ের করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আজমির হোসেন দাবি করেন, ডিভাইডারের গাছগুলো তার কাছে ‘অকার্যকর’ মনে হয় এবং তিনি সেখানে ফলগাছ ও সবজি চাষ করতে চান। কিছু গাছ তিনি নিজে নিয়ে যান, আর কিছু স্থানীয়রা লাকড়ির জন্য নিয়ে গেছে বলেও জানান।

২০১৬ সালে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগায় সওজ। সৌন্দর্যবর্ধন এবং যানবাহনের আলো নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব গাছ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন করে রোপণ করা বকুল গাছগুলো যেন আর কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মহাসড়কে কেটা ফেলা জায়গায় ৬৪ বকুল গাছ রোপণ

সর্বশেষ আপডেট ০৮:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার বেলতলী এলাকায় বিভাজকে কেটে ফেলা গাছের স্থানে নতুন করে ৬৪টি বকুল গাছ রোপণ করা হয়েছে। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রায় ৫০০ মিটার জুড়ে এসব গাছ লাগান।

কুমিল্লা সওজের উপ-বিভাগীয় সহকারী প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান জানান, কাটা গাছের জায়গায় বকুল গাছ রোপণ সম্পন্ন হয়েছে এবং যিনি আগের গাছগুলো উজাড় করেছিলেন তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এসব গাছের নিয়মিত পরিচর্যার জন্য আলাদা কোনো জনবল নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নির্মাণশ্রমিকরাই দেখভাল করেন।

কুমিল্লার উদ্ভিদপ্রেমী চিকিৎসক আবু নাঈম বলেন, বকুল গাছ টেকসই ও কষ্টসহিষ্ণু। মহাসড়কের বাঁকবদল থাকা এলাকায় এই গাছ চালকদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী, কারণ বড় হওয়া গাছের পাতার আড়ালে এক পাশের গাড়ির হেডলাইটের আলো সরাসরি অন্য পাশের চালকের চোখে পড়ার ঝুঁকি কমে।

সম্প্রতি এই মহাসড়কের বেলতলী এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক বকুল গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা হয়। সৌন্দর্যবর্ধন ও নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে রোপিত প্রায় নয় বছরের সেই গাছগুলো কেটে ফেলেন স্থানীয় এক চা দোকানি আজমির হোসেন। সওজ মামলা দায়ের করলে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আজমির হোসেন দাবি করেন, ডিভাইডারের গাছগুলো তার কাছে ‘অকার্যকর’ মনে হয় এবং তিনি সেখানে ফলগাছ ও সবজি চাষ করতে চান। কিছু গাছ তিনি নিজে নিয়ে যান, আর কিছু স্থানীয়রা লাকড়ির জন্য নিয়ে গেছে বলেও জানান।

২০১৬ সালে মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার পর দাউদকান্দি থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত প্রায় ১৪৩ কিলোমিটার বিভাজকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগায় সওজ। সৌন্দর্যবর্ধন এবং যানবাহনের আলো নিয়ন্ত্রণের জন্য এসব গাছ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন করে রোপণ করা বকুল গাছগুলো যেন আর কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।