ঢাকা ০৪:১৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিএনপির কড়া বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সর্বশেষ আপডেট ০১:২২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
  • / 124

বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটকে সামনে রেখে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকায় ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নানাভাবে মূল্যায়নের আশ্বাসও দেয়া হয়। তবে এ বৈঠক থেকে কোনো প্রার্থীকেই সরাসরি সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।

নির্বাচনী তফসিলের আগেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ভোটের আবহে রীতিমতো উন্মুখ হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ করছেন, তখন বাইরে সমর্থকরা উৎকণ্ঠিত অবস্থায় অপেক্ষা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

রোববার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের ১১৪টি সংসদীয় আসনের অন্তত সাড়ে তিন শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সঙ্গে দুই ধাপে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তারেক রহমান। সোমবার একই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে।

আজ সোমবার এ রিপোর্ট লেখার সময় দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের কয়েকটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এসেছেন। তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তবে গতকালের বৈঠকের শুরুতেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কড়া ভাষায় দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে তারেক রহমান ছিলেন অভিভাবকসুলভ ভূমিকায় এবং দেশ-দলের বাস্তবতা তুলে ধরেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য শোনেন, কিন্তু নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। তারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং মিত্রদের জন্য আসন সমঝোতা হলে তা মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কেন তফসিল ঘোষণার আগেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক হলো, সে বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “২০১৮ সালের পর থেকে আমরা নির্বাচনের বাইরে। এর মধ্যে বহু প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। জনগণের মধ্যে অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তাই আগে থেকেই ভোটের মাঠে নামতে চাই, যাতে প্রচারণা শুরু করা যায়।”

মনোনয়নের ক্ষেত্রে এবার একজন প্রার্থীকেই সবুজ সংকেত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতা। কারণ একাধিক প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া আগে ফলপ্রসূ হয়নি।

তবে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর ক্ষেত্রে কতটা সফলতা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা উৎকণ্ঠিত। দলটি ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। নবম জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো, দশম ও দ্বাদশ নির্বাচনে বয়কট এবং একাদশ নির্বাচনে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে একাধিকবার জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি এ নিয়েও সতর্ক।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিএনপির কড়া বার্তা

সর্বশেষ আপডেট ০১:২২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ভোটকে সামনে রেখে বিএনপি ধারাবাহিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকায় ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করেন এবং ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দেয়া হয়েছে কড়া সতর্কতা। একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে যারা বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের নানাভাবে মূল্যায়নের আশ্বাসও দেয়া হয়। তবে এ বৈঠক থেকে কোনো প্রার্থীকেই সরাসরি সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলা এড়াতে তারা আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।

নির্বাচনী তফসিলের আগেই বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা ভোটের আবহে রীতিমতো উন্মুখ হয়ে উঠেছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভার্চুয়াল সাক্ষাৎ করছেন, তখন বাইরে সমর্থকরা উৎকণ্ঠিত অবস্থায় অপেক্ষা করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গুলশান কার্যালয়ের সামনে এমন চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

রোববার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগের ১১৪টি সংসদীয় আসনের অন্তত সাড়ে তিন শতাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর সঙ্গে দুই ধাপে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন তারেক রহমান। সোমবার একই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও ঢাকা বিভাগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে।

আজ সোমবার এ রিপোর্ট লেখার সময় দুপুরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে খুলনা বিভাগের কয়েকটি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এসেছেন। তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তবে গতকালের বৈঠকের শুরুতেই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কড়া ভাষায় দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। তবে তারেক রহমান ছিলেন অভিভাবকসুলভ ভূমিকায় এবং দেশ-দলের বাস্তবতা তুলে ধরেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের নীতিনির্ধারকদের বক্তব্য শোনেন, কিন্তু নিজেদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি। তারা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং মিত্রদের জন্য আসন সমঝোতা হলে তা মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

কেন তফসিল ঘোষণার আগেই মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক হলো, সে বিষয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “২০১৮ সালের পর থেকে আমরা নির্বাচনের বাইরে। এর মধ্যে বহু প্রহসনের নির্বাচন হয়েছে। জনগণের মধ্যে অনেক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। তাই আগে থেকেই ভোটের মাঠে নামতে চাই, যাতে প্রচারণা শুরু করা যায়।”

মনোনয়নের ক্ষেত্রে এবার একজন প্রার্থীকেই সবুজ সংকেত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির নেতা। কারণ একাধিক প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া আগে ফলপ্রসূ হয়নি।

তবে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকানোর ক্ষেত্রে কতটা সফলতা পাওয়া যাবে, তা নিয়ে দলের নেতা-কর্মীরা উৎকণ্ঠিত। দলটি ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। নবম জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো, দশম ও দ্বাদশ নির্বাচনে বয়কট এবং একাদশ নির্বাচনে তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে একাধিকবার জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপি এ নিয়েও সতর্ক।