ঢাকা ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
আমদানি-রপ্তানির দাপ্তরিক কাজ চলবে একই ভবনে

মঙ্গলবার শাহজালালে নামবে প্রথম কার্গো ফ্লাইট

শরিয়ত খান, বিশেষ প্রতিনিধি
  • সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • / 276

চার দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে কার্গো বিমান। প্রায় চার’শ টন আমদানি পন্য নিয়ে ক্যাথে প্যাসেফিকের কার্গো ফ্লাইট নামবে ঢাকায়। এর মধ্য দিয়ে আবার চালু হচ্চে আমদানি পন্য পরিবহন।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন লাগার পর যাত্রী বিমানে কিছু পন্য আমদানি হলেও এখন পর্যন্ত কোনও নতুন কার্গো ফ্লাইট অবতরণ করেনি। মঙ্গলবার থেকে ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো ফ্লাইট নামার কথা রয়েছে। হংকং থেকে ঢাকায় আসছে এই ফ্লাইট। আর এটি হবে আগুনের ঘটনার পর প্রথম আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট।

জানা যায়, প্রথম কার্গো ফ্লাইটে আসবে প্রায় চার’শ টন আমদানি পন্য। যা রাখার স্থান নির্ধারন করা হয়েছে রপ্তানি ভিলেজের পাশের একটি উন্মুক্ত স্থানে। পন্য খালাসের পর তা বের হবে নয় নম্বর গেট দিয়ে।

এদিকে, উন্মুক্ত স্থানে পন্য রাখা নিয়েও চিন্তিত বিমান কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টি হলে পন্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব একটি সেড নির্মানের চিন্তা করছে তারা। তবে নিজস্বভাবে সেড নির্মান প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় তা বিজিএমইএর পৃষ্ঠপোষকতায় করা হচ্ছে।

জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসবেন বিজিএমই’র নেতারা। সেই সভায় সেড নির্মানের বিষয়টি চুড়ান্ত করা হবে।

এদিকে, আমদানি পন্য খালাসের প্রক্রিয়া সচল রাখতে রপ্তানি কার্গো ভবনের সাথে ভাগাভাগি করে দাপ্তরিক কাজ চলবে। সে অনুযায়ি অফিসের মালামাল সাজানো হচ্ছে। নতুন ভবন না পাওয়া পর‌্যন্ত এখানেই চলবে কাজ।

এছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর‌্যন্ত প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা আমদানি পন্য খালাস কার‌্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাও এতে সহায়তা করবে।

এদিকে পন্য খালাসের লেনদেন কার্যক্রম চালু রাখতে রাপ্তানি কার্গো ভিলেজে একটি পাশে সীমিত পরিসরে সিটি ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে।

জানা যায়, কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় বিকল্প ব্যবস্থা চালু হলেও আমদানি পণ্য ছাড় ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এখনো সচল করা যায়নি পুড়ে যাওয়া আমদানি কার্গো ভিলেজের নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। ফলে আমদানির মালামাল ছাড়ের আংশিক কার্যক্রম শুরু হলেও, তা চলছে বিমানের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ দিয়ে। এতে কার্যক্রম ধীরগতি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমদানিকারক ও এজেন্টরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। তবে ডিজিটাল সিস্টেম বন্ধ থাকায় সীমিত পরিসরে কাজ চলছে।

গত শনিবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থার প্রায় নয় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যা পুরোপুরি নেভাতে সময় লেগে যায় ২৪ ঘন্টারও বেশি।

এ ঘটনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

আমদানি-রপ্তানির দাপ্তরিক কাজ চলবে একই ভবনে

মঙ্গলবার শাহজালালে নামবে প্রথম কার্গো ফ্লাইট

সর্বশেষ আপডেট ০৮:১৫:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

চার দিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে কার্গো বিমান। প্রায় চার’শ টন আমদানি পন্য নিয়ে ক্যাথে প্যাসেফিকের কার্গো ফ্লাইট নামবে ঢাকায়। এর মধ্য দিয়ে আবার চালু হচ্চে আমদানি পন্য পরিবহন।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন লাগার পর যাত্রী বিমানে কিছু পন্য আমদানি হলেও এখন পর্যন্ত কোনও নতুন কার্গো ফ্লাইট অবতরণ করেনি। মঙ্গলবার থেকে ক্যাথে প্যাসেফিক এয়ারলাইন্সের একটি কার্গো ফ্লাইট নামার কথা রয়েছে। হংকং থেকে ঢাকায় আসছে এই ফ্লাইট। আর এটি হবে আগুনের ঘটনার পর প্রথম আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট।

জানা যায়, প্রথম কার্গো ফ্লাইটে আসবে প্রায় চার’শ টন আমদানি পন্য। যা রাখার স্থান নির্ধারন করা হয়েছে রপ্তানি ভিলেজের পাশের একটি উন্মুক্ত স্থানে। পন্য খালাসের পর তা বের হবে নয় নম্বর গেট দিয়ে।

এদিকে, উন্মুক্ত স্থানে পন্য রাখা নিয়েও চিন্তিত বিমান কর্তৃপক্ষ। বৃষ্টি হলে পন্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব একটি সেড নির্মানের চিন্তা করছে তারা। তবে নিজস্বভাবে সেড নির্মান প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় তা বিজিএমইএর পৃষ্ঠপোষকতায় করা হচ্ছে।

জানা যায়, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসবেন বিজিএমই’র নেতারা। সেই সভায় সেড নির্মানের বিষয়টি চুড়ান্ত করা হবে।

এদিকে, আমদানি পন্য খালাসের প্রক্রিয়া সচল রাখতে রপ্তানি কার্গো ভবনের সাথে ভাগাভাগি করে দাপ্তরিক কাজ চলবে। সে অনুযায়ি অফিসের মালামাল সাজানো হচ্ছে। নতুন ভবন না পাওয়া পর‌্যন্ত এখানেই চলবে কাজ।

এছাড়া সবকিছু স্বাভাবিক না হওয়া পর‌্যন্ত প্রতিদিন ২৪ ঘন্টা আমদানি পন্য খালাস কার‌্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিমান কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাও এতে সহায়তা করবে।

এদিকে পন্য খালাসের লেনদেন কার্যক্রম চালু রাখতে রাপ্তানি কার্গো ভিলেজে একটি পাশে সীমিত পরিসরে সিটি ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে।

জানা যায়, কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তিন দিনের মাথায় বিকল্প ব্যবস্থা চালু হলেও আমদানি পণ্য ছাড় ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এখনও স্বাভাবিক হয়নি। এখনো সচল করা যায়নি পুড়ে যাওয়া আমদানি কার্গো ভিলেজের নেটওয়ার্কিং সিস্টেম। ফলে আমদানির মালামাল ছাড়ের আংশিক কার্যক্রম শুরু হলেও, তা চলছে বিমানের কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপ দিয়ে। এতে কার্যক্রম ধীরগতি হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আমদানিকারক ও এজেন্টরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি ভিত্তিতে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের বিকল্প ব্যবস্থাপনা চালু করা হয়েছে। তবে ডিজিটাল সিস্টেম বন্ধ থাকায় সীমিত পরিসরে কাজ চলছে।

গত শনিবার দুপুরে শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থার প্রায় নয় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। যা পুরোপুরি নেভাতে সময় লেগে যায় ২৪ ঘন্টারও বেশি।

এ ঘটনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আমদানিকৃত বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জামসহ বিভিন্ন কোম্পানির প্রায় হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে যায়।