ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোটের মাঠে বিদেশিদের চোখ

নিউজ ডেস্ক
  • সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / 196

নির্বাচন কমিশন

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন দেশি-বিদেশি নানা মহলে আগ্রহ বেড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দল ও জনগণ নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও এই নির্বাচন ঘিরে কৌতূহল স্পষ্ট। নির্বাচন কতটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে; সেটির ওপরই নির্ভর করে অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও সহযোগিতা। এই প্রেক্ষাপটেই বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে প্রাপ্ত মতামত অনেক সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সরকার পর্যবেক্ষকদের আসা ও কাজ করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিয়ে থাকে।

একজন প্রাক্তন কূটনীতিক জানান, অনেক সময় দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো বা বিতর্কিত নির্বাচনী ইতিহাস থাকলে বিদেশি পক্ষগুলো নিজেরা এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে চায়। এটি একধরনের আস্থা যাচাই বলেও বিবেচিত হয়।

উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় দেশগুলো) নির্বাচনে সাধারণত বিদেশি পর্যবেক্ষক দেখা যায় না, কারণ সেসব দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বৈশ্বিক আস্থা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যদি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ বলে মত দেন, তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বাড়ে।

১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কারা পাঠায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক?
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ছাড়াও জাতিসংঘ, ওআইসি, সার্ক এবং কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেয়।

২০২৫ সালের সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইইউর আগ্রহের পর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রাক-নির্বাচনি দল আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফর করবে।

কীভাবে কাজ করে নির্বাচন কমিশন?
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এর আওতায় তারা নিবন্ধন করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যায়। পাশাপাশি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রদানসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে।

একজন সাবেক কূটনীতিকের মতে, নির্বাচন নিয়ে দেশের ভেতরে যেহেতু নানা বিতর্ক ও আস্থার সংকট রয়েছে, তাই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়টি গৃহীত হওয়া উচিত। তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বললে তা দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করতে পারে এবং ভবিষ্যতের বৈদেশিক সম্পর্কও আরও মজবুত হতে পারে।

 

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

ভোটের মাঠে বিদেশিদের চোখ

সর্বশেষ আপডেট ১০:৩১:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ অগাস্ট ২০২৫

বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন দেশি-বিদেশি নানা মহলে আগ্রহ বেড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দল ও জনগণ নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরেও এই নির্বাচন ঘিরে কৌতূহল স্পষ্ট। নির্বাচন কতটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে; সেটির ওপরই নির্ভর করে অনেক দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও সহযোগিতা। এই প্রেক্ষাপটেই বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠিয়ে থাকে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মাধ্যমে প্রাপ্ত মতামত অনেক সময় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার ও প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশ সরকার পর্যবেক্ষকদের আসা ও কাজ করার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তাও দিয়ে থাকে।

একজন প্রাক্তন কূটনীতিক জানান, অনেক সময় দুর্বল গণতান্ত্রিক কাঠামো বা বিতর্কিত নির্বাচনী ইতিহাস থাকলে বিদেশি পক্ষগুলো নিজেরা এসে পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে চায়। এটি একধরনের আস্থা যাচাই বলেও বিবেচিত হয়।

উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় দেশগুলো) নির্বাচনে সাধারণত বিদেশি পর্যবেক্ষক দেখা যায় না, কারণ সেসব দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় বৈশ্বিক আস্থা থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে যদি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ বলে মত দেন, তাহলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা অনেকটাই বাড়ে।

১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

কারা পাঠায় নির্বাচন পর্যবেক্ষক?
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, মালয়েশিয়া ছাড়াও জাতিসংঘ, ওআইসি, সার্ক এবং কমনওয়েলথের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেয়।

২০২৫ সালের সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইইউর আগ্রহের পর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রাক-নির্বাচনি দল আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ সফর করবে।

কীভাবে কাজ করে নির্বাচন কমিশন?
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এর আওতায় তারা নিবন্ধন করে এবং সেই অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যায়। পাশাপাশি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভিসা প্রদানসহ অন্যান্য সহায়তা দিয়ে থাকে।

একজন সাবেক কূটনীতিকের মতে, নির্বাচন নিয়ে দেশের ভেতরে যেহেতু নানা বিতর্ক ও আস্থার সংকট রয়েছে, তাই বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিষয়টি গৃহীত হওয়া উচিত। তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বললে তা দেশের ভাবমূর্তি উন্নত করতে পারে এবং ভবিষ্যতের বৈদেশিক সম্পর্কও আরও মজবুত হতে পারে।