ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে ভোক্তাদের দুশ্চিন্তা
- সর্বশেষ আপডেট ০৯:৩২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / 84
ভোজ্যতেলের দাম আবারও বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে দেশের বাজারে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠা-নামা থাকলেও বাংলাদেশে প্রভাব সবসময় উল্টোভাবে পড়ে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমার বদলে বেড়ে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১,২০০ ডলার এবং পাম তেলেরও দাম বাড়ছে। তাই তারা দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ভোক্তারা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা অভিযোগ করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও বাংলাদেশে তার প্রভাব পড়ে না এবং ব্যবসায়ীরা নানা যুক্তিতে বারবার দাম বাড়াচ্ছেন। ঢাকা ও অন্যান্য শহরের বাজারে বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৯ টাকা এবং পাম তেল ১৬৯ টাকায়। প্রস্তাবিত ১০ টাকা বৃদ্ধির পর দাম দাঁড়াবে প্রায় ২০০ টাকায়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দাম সমন্বয়ের নামে ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিচ্ছেন। একদিকে টিসিবি সীমিত পরিসরে ভর্তুকি মূল্যে তেল বিক্রি করছে, অন্যদিকে খোলা বাজারে দাম বাড়ানো হচ্ছে।’
ক্যাব সভাপতি এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, ‘যেকোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ব্যবসায়ীরা ভোজ্যতেলের দাম বাড়ালে সেই প্রক্রিয়া মানতে হবে। তবে যদি আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যের সঙ্গে আমদানি খরচ ও আনুষাঙ্গিক বিষয় যুক্ত করা হয়, তবে তাদের দাবিও যৌক্তিক হবে। অন্যথায় দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ অপ্রস্তুত থাকবে।’
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, পাম ও ভুট্টার তেলের আমদানিতে এক শতাংশ উৎসে কর বসিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ব্যবস্থাও ভোজ্যতেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে।
সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এর মধ্যে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়াবে। যদি বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা হয়, তবে তা রাজনৈতিক প্রভাবও ফেলতে পারে এবং সরকারের ওপর অনাস্থা সৃষ্টি করতে পারে।’
এর আগে, ১২ আগস্ট সরকার পাম তেলের দাম লিটারে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিলেন। সয়াবিন তেলের দাম তখন অপরিবর্তিত ছিল ১৮৯ টাকা। এরও আগে, এপ্রিল মাসে সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা এবং পাম তেল ১৬৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ‘ব্যবসায়ীদের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছি এবং বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’






































