ভূমি অফিসে নায়েব-দালালের লাঞ্ছনায় নারী সাংবাদিক
- সর্বশেষ আপডেট ০২:৫৬:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
- / 303
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার আকুয়া ভূমি অফিসের সাবেক ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (নায়েব) আবুল কালামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল, ঘুষ বাণিজ্য এবং জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি খাস জমি দখল করেছেন এবং জমির নামজারির বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল কালাম প্রায় ১৫ বছর ধরে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত ছিলেন। যারা তার এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করেছেন, তাদেরকে হুমকি ও অপমান সহ্য করতে হয়েছে।
গতকাল তার কার্যালয়ে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য চাওয়ায় এশিয়ান টেলিভিশনের ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি নারী সাংবাদিক তাসলিমা আরা রত্নাকে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করেন আবুল কালাম ও তার ঘনিষ্ঠ দালাল উজ্জ্বল। ঘটনার পর তিনি আশ্চর্যজনকভাবে বদলি হয়ে যান ময়মনসিংহ সদরের নিলক্ষীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। সেখানেও তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমানে তিনি চরঈশ্বরদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পুরনো কায়দাতেই অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, উজ্জ্বল নামে একজন ব্যক্তিকে, যিনি কোনো অফিস স্টাফ নন, অফিসে বসিয়ে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অনিয়ম পরিচালনা করছেন। উজ্জ্বলের ঘুষ গ্রহণ, অফিস চালানো এবং দালালি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, আবুল কালাম তার শাশুড়ির নামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কিনেছেন এবং ময়মনসিংহ শহরের আকুয়ায় একটি ছয়তলা আলিশান বাড়ির মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন সরকারি কর্মকর্তার বেসিক বেতনে এত বিপুল সম্পত্তি গড়ে উঠল কীভাবে?
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এক সংসদ সদস্যের আত্মীয়কে ম্যানেজ করে আকুয়া ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন চাকরি করেছেন। সেই সময় তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রকৃত মালিকের জমি অন্যের নামে নামজারি করে বহু বিরোধ তৈরি করেছেন।
জিলা স্কুল রোডে বাইপাস সংলগ্ন এক ব্যক্তির জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও নামজারির জন্য ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি তাসলিমা আরা রত্না জানান, “ভূমি কর্মকর্তা কালামের অফিসের অনিয়মের তথ্য চাইলে তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এতে প্রমাণ হয় তিনি একজন দুর্নীতিবাজ। আমি তার দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”
স্থানীয় জনগণ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত এসব অভিযোগ তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে জনগণের আস্থা ফিরবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর বার্তা যাবে।
































